ঢাকা থেকে প্রথম বিদেশ ভ্রমণের জন্য দুবাই সবচেয়ে সহজ গন্তব্যগুলোর একটি। ফ্লাইট অনেক, শহর নিরাপদ, দিকনির্দেশনাও পরিষ্কার, আর তিন-চার দিনে অবাক হওয়ার মতো অনেক কিছু দেখে ফেলা যায়। আসল কৌশল হলো সব দেখার চেষ্টা না করা। এলাকা ধরে শহরটাকে ভাগ করুন, প্রতিটি এলাকার জন্য একটি করে দিন রাখুন, আর দুপুরের গরম বাড়লে বিশ্রামের সময় রাখুন।
প্রথম দিন: পুরোনো দুবাই আর খাঁড়ি
শহরটা যেখান থেকে শুরু, সেখান থেকেই শুরু করুন। আল ফাহিদি হিস্টোরিক্যাল নেইবারহুড বালুরঙা সরু গলি আর পুরোনো উইন্ড-টাওয়ার বাড়ির এক শান্ত গোলকধাঁধা, রোদ চড়ার আগে সকালবেলায় জায়গাটা সবচেয়ে সুন্দর। হেঁটে খাঁড়ির পাড়ে যান, তারপর আবরা নামের ছোট কাঠের জল-ট্যাক্সিতে চড়ে দেইরায় পার হন। স্থানীয়রা এখনো প্রতিদিন এটি ব্যবহার করেন। কয়েক মিনিটের পথ, খরচও সামান্য, আর পুরোনো শহর দেখার সেরা দৃশ্যগুলোর একটি এখান থেকেই।
দেইরার দিকে পাবেন স্পাইস সুক আর গোল্ড সুক। কিছু না কিনলেও ধীরে ঘুরে দেখার মতো। সোনা কিনলে ওজন আর মজুরি আলাদা করে জেনে নিন, রসিদটাও রেখে দিন।
দ্বিতীয় দিন: ডাউনটাউন আর বুর্জ খলিফা
ছবিতে যে দুবাই দেখেছেন, সেটাই ডাউনটাউন। বুর্জ খলিফার ওপরের দিকে পর্যবেক্ষণ ডেক আছে, আর সূর্যাস্তের সময়ের স্লটগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তাই ওই দৃশ্য চাইলে আগে থেকে বুক করুন। এর নিচেই দুবাই মল, এক দিন কাটিয়ে দেওয়ার মতো বড়। ভেতরে অ্যাকুয়ারিয়াম, আইস রিংক আর দরকারের চেয়ে অনেক বেশি দোকান।
সন্ধ্যায় লেকের পাশে একটা জায়গা বেছে নিয়ে দুবাই ফাউন্টেন শো দেখুন। প্রতি সন্ধ্যায় কয়েকবার হয়, দেখতে কোনো খরচ নেই।
তৃতীয় দিন: ডেজার্ট সাফারি
বেশির ভাগ ডেজার্ট সাফারি বিকেলে হোটেল থেকে তুলে নিয়ে বালিয়াড়িতে যায়। সাধারণত সন্ধ্যাটা এমন হয়:
- ফোর-হুইল ড্রাইভ গাড়িতে বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে ড্রাইভ, রোমাঞ্চকর কিন্তু ঝাঁকুনি বেশি, তাই গাড়িতে বমিভাব হলে বা অন্তঃসত্ত্বা হলে এড়িয়ে চলুন
- বালুর ওপর সূর্যাস্ত, প্রায়ই সঙ্গে ছোট উটের পিঠে চড়া বা স্যান্ডবোর্ডিং
- ক্যাম্পে বারবিকিউ ডিনার আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ফিরতে রাত হবে, তাই সকালটা হোটেলের পুলে বা সৈকতে আরাম করে কাটান। বয়স্ক মা-বাবা বা ছোট বাচ্চা সঙ্গে থাকলে হালকা ড্রাইভ বা শুধু ক্যাম্পের অপশন চেয়ে নিন।
চতুর্থ দিন: মেরিনা আর সৈকত
চতুর্থ দিন হাতে থাকলে চলে যান দুবাই মেরিনা আর জেবিআর এলাকায়, যেখানে সৈকত, হাঁটার পথ আর ক্যাফে পাশাপাশি। সন্ধ্যায় মেরিনায় নৌকাভ্রমণ বেশ আরামের, আর খেজুরগাছের আকৃতির বিখ্যাত দ্বীপ পাম জুমেইরা কাছেই। ফ্লাইটের আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার জন্যও দিনটা ভালো।
আবুধাবি যোগ করতে চাইলে সড়কপথে এক দিনের ভ্রমণ সহজ। আমাদের দুবাই ও আবুধাবি প্যাকেজে এটি আগে থেকেই রাখা আছে।
গতি, পোশাক আর কখন যাবেন
সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ সবচেয়ে ভালো সময়, দিন উষ্ণ আর সন্ধ্যা মনোরম। মোটামুটি জুন থেকে সেপ্টেম্বর প্রচণ্ড গরম থাকে, তাই বাইরের জায়গাগুলো ভোরে আর সন্ধ্যায় রাখুন, দুপুরটা কাটান ভেতরে।
কয়েকটি কাজের কথা:
- পুরোনো এলাকা, মল আর সুকে শালীন পোশাক পরুন। কাঁধ আর হাঁটু ঢাকা হালকা কাপড় আরামদায়কও, সম্মানজনকও।
- মসজিদে গেলে নারীদের চুল ঢাকতে হবে এবং হাত-পা ঢাকা ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে।
- দুবাই মেট্রো পরিষ্কার আর সহজ। একটি নোল কার্ড দিয়ে মেট্রো, বাস আর ট্রাম সবই চলে।
- শীতকালেও পানি, টুপি আর সানস্ক্রিন সঙ্গে রাখুন।
- রমজানে রোজার সময় প্রকাশ্যে খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে বিবেচক থাকুন।
দিনে একটি বড় কাজ করুন, বাকি দিনটা খোলা রাখুন। ধীরে ঘুরলেই দুবাই বেশি উপভোগ্য।
ভিসা নিয়ে একটি কথা
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেতে ভিসা লাগে। সাধারণত পাসপোর্ট, ছবি এবং কখনো কখনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও হোটেল বুকিং চাওয়া হয়, তবে নিয়ম বদলায়, আর আবেদনের সময় সফটওয়ে ট্রাভেলস বর্তমান নিয়ম যাচাই করে নেয়।
ফ্লাইট, হোটেল, ট্রান্সফার আর সাফারি একসঙ্গে গুছিয়ে নিতে চাইলে দেখুন আমাদের দুবাই সিটি ব্রেক। আপনার তারিখ আর পছন্দের গতি মিলিয়ে পুরো ভ্রমণ সাজিয়ে বুক করে দিতে পারে সফটওয়ে ট্রাভেলস।