ভ্রমণ টিপস3 মিনিটে পড়া
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়া: একটি কাজের গাইড
কখন যাওয়া যায়, জাহাজে যাতায়াত কীভাবে চলে, পর্যটক সীমা কেন জরুরি, আর বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপকে কীভাবে রক্ষা করবেন।

সেন্ট মার্টিন ছোট, সমতল একটা দ্বীপ; চারপাশে স্বচ্ছ নীল পানি, নারকেলগাছ আর প্রবাল-পাথরের তীর। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, আর ঠিক সে কারণেই এখন সেখানে যেতে আগের চেয়ে বেশি পরিকল্পনা লাগে। দ্বীপটি ভঙ্গুর, মৌসুম ছোট, আর নিয়ম ঠিক হয় প্রতি বছর। যাওয়ার আগে ব্যাপারটা কীভাবে চলে জানা থাকলে সফর সহজ, আর অভিজ্ঞতাও দারুণ।
কখন যাওয়া যায়
সেন্ট মার্টিন শুষ্ক মৌসুমের গন্তব্য। জাহাজ চলে কেবল শান্ত মাসগুলোতে, মোটামুটি হেমন্তের শেষ থেকে বসন্তের শুরু পর্যন্ত, কারণ বর্ষায় বঙ্গোপসাগর খুব উত্তাল হয়ে ওঠে। মৌসুমের বাইরে দ্বীপে পর্যটকদের জন্য নিয়মিত কোনো রুট থাকে না।
মৌসুমের মধ্যেও গত কয়েক বছরে সরকার প্রতিদিন কতজন পর্যটক যেতে পারবেন তা সীমিত করেছে, আর কোনো কোনো মাসে শুধু দিনে গিয়ে দিনে ফেরার অনুমতি দিয়েছে, রাতে থাকার নয়। এই নিয়ম, তারিখ আর নিবন্ধনের পদ্ধতি প্রতি বছর নতুন করে ঠিক হয় এবং অল্প সময়ের নোটিশে বদলাতে পারে। বুকিংয়ের সময় সফটওয়ে ট্রাভেলস আপনার জন্য সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নেয়।
সেই মৌসুমের নিয়মে আপনার জাহাজ আর যাত্রার তারিখ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দ্বীপের হোটেল বুক করবেন না।
কক্সবাজারের দিক থেকে জাহাজ
পর্যটক জাহাজ ছাড়ে কক্সবাজারের দিক থেকে, তবে মৌসুমভেদে ছাড়ার জায়গা বদলেছে, তাই আপনার জাহাজ কোথা থেকে ছাড়বে নিশ্চিত হয়ে নিন। যাত্রায় কয়েক ঘণ্টা লাগে; উপকূল পেরিয়ে খোলা সাগরে যায়, প্রায়ই জাহাজের পিছু নেয় সামুদ্রিক পাখি। কয়েকটা পরামর্শ যাত্রা সহজ করবে:
- পরিচয়পত্র আর টিকেট হাতে রেখে আগেভাগে জেটিতে পৌঁছান। জাহাজ ভরা থাকলে ওঠা ধীরে হয়।
- সমুদ্রপীড়ার প্রবণতা থাকলে আগেই ওষুধ খেয়ে নিন, আর জাহাজের মাঝামাঝি বসুন।
- খোলা ডেকের জন্য পানি, হালকা খাবার, সানস্ক্রিন আর টুপি সঙ্গে রাখুন।
- শর্টকাট হিসেবে ছোট মাছ ধরার নৌকা এড়িয়ে চলুন। পর্যটকদের জন্য এটা নিরাপদও নয়, অনুমোদিতও নয়।
দ্বীপে কী করবেন
দেখার জায়গার লম্বা তালিকা নেই, আর সেটাই এর আকর্ষণ। তীর ধরে হাঁটুন বা সাইকেল চালান, দিনভর পানির রং বদলানো দেখুন, সন্ধ্যায় সৈকতের পাশে তাজা মাছ ভাজা খান। দক্ষিণ প্রান্তে ছেঁড়া দ্বীপ, ছোট একটা ভূখণ্ড; অবস্থাভেদে ভাটার সময় হেঁটে বা স্থানীয় নৌকায় যাওয়া যায়। জোয়ার-ভাটা চেনেন এমন কাউকে সঙ্গে নিন, পানি ফিরে আসার সময় যেন আটকে না পড়েন।
দ্বীপের বেশিরভাগ থাকার জায়গা সাদামাটা। বিদ্যুৎ আংশিক জেনারেটর বা সৌরশক্তিনির্ভর হতে পারে, মোবাইল নেটওয়ার্কও অনিয়মিত; তাই পাওয়ার ব্যাংক আর কিছু নগদ টাকা সঙ্গে রাখুন।
প্রবাল দ্বীপকে রক্ষা করুন
প্রবাল, সামুদ্রিক ঘাস আর যে সৈকতে কচ্ছপ ডিম পাড়তে আসে, এগুলোই সেন্ট মার্টিনকে অনন্য করেছে, আর এগুলো খুব সহজেই নষ্ট হয়। পর্যটক সীমার কারণও এটাই। তাই অনুগ্রহ করে:
- পারলে একবার ব্যবহারের কোনো প্লাস্টিক নেবেন না, আর প্রতিটি মোড়ক ও বোতল মূল ভূখণ্ডে ফিরিয়ে আনুন।
- প্রবাল, ঝিনুক বা পাথরের ওপর দাঁড়াবেন না, ভাঙবেন না, সংগ্রহও করবেন না।
- কচ্ছপ আর তাদের ডিম পাড়ার জায়গা থেকে দূরে থাকুন, রাতে সৈকতে জোরালো টর্চ বা আলো জ্বালাবেন না।
- গান বাজাবেন না। দ্বীপের নীরবতাই মানুষ খুঁজতে আসে, আর জোরালো শব্দে প্রাণীদের বিরক্ত হয়।
- দ্বীপের পরিবারগুলোকে সম্মান করুন, গ্রামে শালীন পোশাক পরুন, কারও ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
সঙ্গে কক্সবাজার
যেহেতু কক্সবাজার হয়েই যেতে হয়, দ্বীপের আগে-পরে সেখানে দু-এক রাত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। মেরিন ড্রাইভ ধরে ইনানী আর হিমছড়ির দিকে যান, সূর্যাস্তে দীর্ঘ সৈকত উপভোগ করুন, আর আবহাওয়া বা নিয়মের কারণে জাহাজের তারিখ বদলালে কক্সবাজারকে হাতে রাখা সময় হিসেবে ব্যবহার করুন। এক-দুই দিনের নমনীয়তা পুরো সফরটাই বাঁচিয়ে দিতে পারে।
সেই মৌসুমের নিয়ম মেনে কক্সবাজারের হোটেল থেকে জাহাজ আর দ্বীপে থাকা পর্যন্ত পুরো যাত্রাটা সাজিয়ে দিতে পারে সফটওয়ে ট্রাভেলস। দেখুন আমাদের কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন প্যাকেজ, অথবা আপনি আগে থেকেই কক্সবাজারে থাকলে সেন্ট মার্টিন প্যাকেজ।
এই ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন?
তারিখ আর কারা যাচ্ছেন জানান, বাকি পরিকল্পনায় আমাদের ডেস্ক সাহায্য করবে।
আমাদের জিজ্ঞেস করুনহলিডে ও প্যাকেজএই ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন?
তারিখ আর কারা যাচ্ছেন জানান, বাকি পরিকল্পনায় আমাদের ডেস্ক সাহায্য করবে।
এই ট্রিপের প্যাকেজ
হলিডে ও প্যাকেজ
আমরা কীভাবে সাহায্য করি দেখুনআরও লেখা পড়ুন

হলিডে3 মিনিটে পড়া
কক্সবাজারে হানিমুন: নিরিবিলি হোটেল, সূর্যাস্ত আর দিনের ভ্রমণ
কক্সবাজারে শান্ত একটি হানিমুনের পরিকল্পনা: নিরিবিলি হোটেল বাছাই, সেরা সূর্যাস্ত, মেরিন ড্রাইভ ধরে হিমছড়ি ও ইনানী, আর মহেশখালীতে একটি দিন।

ভ্রমণ টিপস3 মিনিটে পড়া
সাজেক ভ্যালি টিপস: মেঘ, কংলাকের সূর্যোদয়, জিপ আর কটেজ
সাজেকে মেঘ দেখার সেরা সময়, কংলাকে সূর্যোদয়, কেন আগে বুক করবেন, আর জিপের এসকর্ট, নেটওয়ার্ক, নগদ টাকা ও ঠান্ডা রাত নিয়ে যা জানা দরকার।

ভ্রমণ টিপস4 মিনিটে পড়া
বগা লেক ও কেওক্রাডং ট্রেক: যাওয়ার আগে যা জানা দরকার
শারীরিক প্রস্তুতি, নিবন্ধন আর গাইড, রুমা হয়ে পথ, বম গ্রামে এক রাত, জোঁক আর বৃষ্টি, আর কেন বান্দরবানের এই ট্রেক মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে।
বলুন, আপনি কোথায় যেতে চান।
আপনার রুট, তারিখ বা ভিসার প্রশ্ন জানান। আমাদের একজন কনসালট্যান্ট দেখে দামসহ পরিষ্কার একটা কোটেশন পাঠাবেন।
- +880 1700-000808
- অফিস টাইম
- শনি–বৃহস্পতি, ৯:৩০–১৯:৩০
- অফিস
- ফ্ল্যাট ২সি (২য় তলা), স্কাই হাইটস, হোল্ডিং ৮৪৮, আশকোনা, দক্ষিণখান, Dhaka 1230ম্যাপে দেখুন
পাসপোর্টের তথ্য আর কাগজপত্র গোপন থাকে। শুধু আপনার বুকিংয়ের কাজেই আমরা এগুলো ব্যবহার করি।

