ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া ভ্রমণের বেশির ভাগই কুয়ালালামপুরে শুরু আর শেষ হয়, অনেকে শহর ছেড়ে বেরোনই না। এটা আফসোসের, কারণ দেশটির সেরা কিছু অভিজ্ঞতা অল্প দূরের গাড়ি, ট্রেন বা ফ্লাইটের পথ। কয়েকটা বাড়তি দিন পেলে শহরের গরম ছেড়ে পাহাড়ের ঠান্ডা হাওয়া, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপ, স্ট্রিট-ফুডের রাজধানী বা ইতিহাসে ভরা নদীর শহরে যেতে পারবেন। কীভাবে বেছে নেবেন আর কীভাবে মেলাবেন, দেখে নিন।
গেন্টিং হাইল্যান্ডস: কুয়ালালামপুরের কাছে ঠান্ডা হাওয়া
কুয়ালালামপুর থেকে গাড়িতে মোটামুটি এক ঘণ্টার পথে পাহাড়ের শৈলশিরায় গেন্টিং হাইল্যান্ডস, আর প্রথমেই টের পাবেন তাপমাত্রার পরিবর্তন। রেইনফরেস্টের ওপর দিয়ে ভেসে চলা আওয়ানা স্কাইওয়ে ক্যাবল কারে ওঠাটাই একটা বড় আকর্ষণ। ওপরে হোটেল, শপিং, ইনডোর-আউটডোর থিম পার্ক আর অনেক রেস্তোরাঁসহ বিশাল রিসোর্ট কমপ্লেক্স।
পথে চিন সুই কেভস টেম্পলে শান্ত বাগান আর বিস্তৃত দৃশ্য। গেন্টিং এক দিনের ভ্রমণ বা এক রাতের জন্য ভালো, বিশেষ করে পরিবারের কাছে খুব জনপ্রিয়। কুয়ালালামপুরে গরম থাকলেও ওপরে কুয়াশা আর ঠান্ডা থাকতে পারে, তাই হালকা জ্যাকেট নিন।
লংকাউই: সৈকত আর দ্বীপ ভ্রমণ
লংকাউই উত্তর-পশ্চিম উপকূলের একগুচ্ছ দ্বীপ, ধীরে চলার জন্যই এখানে যাওয়া। পান্তাই চেনাংয়ের নরম বালুতে দিন কাটান, ঈগল আর চুনাপাথরের খাড়া পাহাড় দেখতে নৌকায় কিলিম ম্যানগ্রোভে যান, অথবা দ্বীপ ভ্রমণের ট্যুরে যোগ দিন, যেটি থামে মিঠাপানির লেক অব দ্য প্রেগন্যান্ট মেইডেনে।
লংকাউই ক্যাবল কার খাড়াভাবে উঠে যায় পাহাড়চূড়ায়, যেখানে বনের ওপর ঝুলে আছে বাঁকানো স্কাই ব্রিজ। লংকাউই শুল্কমুক্ত দ্বীপও, চকলেট, প্রসাধনী আর গৃহস্থালি জিনিস কিনতে অনেকে এটা উপভোগ করেন। ব্যস্ত ভ্রমণের শেষে এখানে দুই-তিন রাত বেশ আরামের।
পেনাং: জর্জ টাউনের খাবার আর রাস্তা
খাবারের জন্য ভ্রমণ করলে পেনাং হয়তো আপনার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হবে। এর রাজধানী জর্জ টাউন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, যেখানে শপহাউস, মন্দির, মসজিদ আর ক্ল্যান হাউস পাশাপাশি। গলিতে ঘুরে খুঁজে নিন বিখ্যাত স্ট্রিট আর্ট ম্যুরাল, আর দেখে আসুন কাপিতান কেলিং মসজিদ ও সমুদ্রতীরের রঙিন ক্ল্যান জেটি।
তারপর খান। পেনাংয়ের হকার স্টলগুলো কিংবদন্তিতুল্য। যে খাবারগুলো খুঁজবেন:
- নাসি কান্দার: পছন্দমতো নানা তরকারির সঙ্গে ভাত, পেনাংয়ের প্রিয় খাবার
- আসাম লাকসা: টক-ঝাল মাছের নুডল স্যুপ
- চার কোয়ে তিয়াও: ধোঁয়াটে স্বাদের ভাজা চ্যাপ্টা নুডল
- চেনডল: নারকেলের দুধ আর তালের গুড় দেওয়া বরফকুচি, গরমে একেবারে মানানসই
মালয়েশিয়াজুড়ে হালাল খাবার সহজেই পাওয়া যায়, তবে কিছু হকার সেন্টারে শূকরের মাংসও বিক্রি হয়, তাই হালাল চিহ্ন দেখুন বা জিজ্ঞেস করুন। শহরের ওপর সূর্যাস্ত দেখতে ফানিকুলারে চড়ে পেনাং হিলে উঠুন।
মালাক্কা: ইতিহাসে ভরা নদীর শহর
মালাক্কা, যার আরেক বানান মেলাকা, একসময় বড় বাণিজ্যবন্দর ছিল, আর ছোট্ট একটি এলাকায় মালয়, পর্তুগিজ, ডাচ ও ব্রিটিশ ইতিহাসের স্তর দেখা যায়। মূল আকর্ষণ ডাচ স্কয়ারের লাল ভবনগুলো, যার মধ্যে ক্রাইস্ট চার্চ আর স্টাডথাইস। সেন্ট পলস হিলে উঠুন, পুরোনো আ ফামোসা ফটক দেখুন, আর সন্ধ্যায় আলোকিত বাড়িঘরের পাশ দিয়ে নদীভ্রমণে যান।
জংকার স্ট্রিট অ্যান্টিকের দোকান আর ক্যাফেতে ভরা, সপ্তাহান্তে জমজমাট নাইট মার্কেট বসে। কুয়ালালামপুর থেকে সড়কপথে লম্বা এক দিনের ভ্রমণে মালাক্কা ঘোরা যায়, তবে এক রাত থাকলে দিনের পর্যটকেরা চলে যাওয়ার পর শহরটা উপভোগ করতে পারবেন।
কুয়ালালামপুরের সঙ্গে সব কীভাবে মেলাবেন
সব দেখার দরকার নেই। যা আপনার সঙ্গে মানায় তা বেছে নিন, আর যাতায়াতের দিন যত কম রাখা যায়। কয়েকটি রুট যা ভালো কাজ করে:
- ছয়-সাত দিন, পরিবারের জন্য: কুয়ালালামপুর, গেন্টিংয়ে এক রাত, তারপর লংকাউইতে কয়েক রাত।
- সাত-আট দিন, খাবার আর সংস্কৃতি: কুয়ালালামপুর, মালাক্কা, তারপর বিমানে বা ট্রেনে উত্তরে পেনাং।
- দশ দিন, পুরো চক্কর: কুয়ালালামপুর, মালাক্কা, পেনাং, তারপর ছোট ফেরি বা ফ্লাইটে লংকাউই, আর দেশে ফেরার জন্য বিমানে কুয়ালালামপুর।
অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট দ্রুত আর ঘন ঘন, কুয়ালালামপুর থেকে পেনাংয়ের দিকের ট্রেন আরামদায়ক, আর ছোট দূরত্বে কোচ নির্ভরযোগ্য। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের মালয়েশিয়া যেতে ভিসা লাগে। সাধারণত পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর বুকিংয়ের কাগজ চাওয়া হয়, তবে নিয়ম বদলায়, তাই আবেদনের সময় সফটওয়ে ট্রাভেলস বর্তমান নিয়ম যাচাই করে নেয়।
তিনটি নয়, একটি জায়গা যোগ করুন। পুরো দেশ তাড়াহুড়ো করে ঘোরার চেয়ে আরাম করে একটি বাড়তি গন্তব্য অনেক ভালো।
আমাদের মালয়েশিয়া প্যাকেজ গেন্টিং, লংকাউই, পেনাং বা মালাক্কা পর্যন্ত বাড়ানো যায়, আর সীমান্ত পেরিয়ে কয়েক দিন যোগ করতে চাইলে দেখুন আমাদের মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর প্যাকেজ। আপনার তারিখ মিলিয়ে রুট সাজিয়ে সব বুক করে দিতে পারে সফটওয়ে ট্রাভেলস।