ঢাকা থেকে নেপাল এত কাছে যে ফ্লাইটে এক কাপ চা শেষ করার সময়ও ঠিকমতো পাওয়া যায় না, অথচ পৌঁছে মনে হয় একেবারে অন্য এক জগৎ। এক সপ্তাহে কাঠমান্ডু উপত্যকার মন্দির আর পুরোনো রাজকীয় চত্বরগুলো দেখে নিতে পারবেন, তারপর পোখারায় লেকের ধারে আরাম করবেন, মাথার ওপরে অন্নপূর্ণা পর্বতমালা। পরিবার, দম্পতি বা বন্ধুদের সবার জন্যই এটি আরামদায়ক ভ্রমণ, আর পাহাড় উপভোগ করতে ট্রেকিং করার দরকার নেই।
সাত দিন কীভাবে ভাগ করবেন
আরামদায়ক একটি পরিকল্পনা এমন হতে পারে:
- প্রথম থেকে তৃতীয় দিন, কাঠমান্ডু উপত্যকা। পৌঁছে গুছিয়ে নিন, তারপর পুরো দুই দিন দরবার স্কয়ার আর বড় স্তূপগুলো দেখুন।
- চতুর্থ দিন, পোখারা যাত্রা। বিমানে বা সড়কপথে যান, সন্ধ্যাটা লেকের ধারে হালকাভাবে কাটান।
- পঞ্চম ও ষষ্ঠ দিন, পোখারা। সারাংকোটে সূর্যোদয়, ফেওয়া লেকে নৌকাভ্রমণ, আর ক্যাফে ও ভিউপয়েন্টে ধীরেসুস্থে একটি দিন।
- সপ্তম দিন, কাঠমান্ডু হয়ে দেশে ফেরা। হাতে একটু বাড়তি সময় রাখুন, কারণ পাহাড়ি আবহাওয়ায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট দেরি হতে পারে।
কাঠমান্ডু: চত্বর, স্তূপ আর পুরোনো শহর
উপত্যকায় তিনটি পুরোনো রাজকীয় শহর, প্রতিটির নিজস্ব দরবার স্কয়ার, অর্থাৎ প্রাসাদ, মন্দির আর উঠানের সমাহার। কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার শহরের মাঝখানে। নদীর ওপারে পাটন সূক্ষ্ম ধাতুর কাজ আর শান্ত গলির জন্য পরিচিত। পূর্ব দিকে অল্প দূরের ভক্তপুর তিনটির মধ্যে সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত, ইটের রাস্তা, মৃৎশিল্পের চত্বর আর জুজু ধৌ নামের বিখ্যাত ঘন দইয়ের জন্য খ্যাত।
দুটি বৌদ্ধ স্থান না দেখলেই নয়। স্বয়ম্ভূনাথ, যাকে অনেকে মাংকি টেম্পল বলেন, পাহাড়ের ওপরে, সিঁড়ি বেয়ে উঠলে পুরো শহরের বিস্তৃত দৃশ্য। বৌদ্ধনাথ বিশ্বের অন্যতম বড় স্তূপ, চারপাশে মঠ আর ছোট ছোট ক্যাফে। সন্ধ্যার শুরুতে, যখন প্রদীপ জ্বলে, তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে ঘড়ির কাঁটার দিকে এর চারপাশে হাঁটুন।
এসব জায়গার অনেকগুলোতে বিদেশি দর্শনার্থীদের প্রবেশ ফি দিতে হয়, তাই কিছু নেপালি রুপি হাতে রাখুন। কেনাকাটা, মুদ্রা বিনিময় আর রেস্তোরাঁর জন্য ব্যস্ত পর্যটন এলাকা থামেল।
পোখারা: লেক আর পাহাড়
কাঠমান্ডুর চেয়ে পোখারা ধীর আর সবুজ। শহরটি ফেওয়া লেকের পাশে, আর পরিষ্কার দিনে অন্নপূর্ণা পর্বতমালার চূড়াগুলো, মাছের লেজের মতো দেখতে মাছাপুছারে সহ, পানিতে প্রতিফলিত হয়। কাঠের নৌকা ভাড়া করে লেকের দ্বীপে ছোট্ট তাল বারাহি মন্দিরে যান, আর শহরের দিকে ফিরে তাকানোর দৃশ্যের জন্য হেঁটে বা গাড়িতে ওয়ার্ল্ড পিস প্যাগোডায় উঠুন।
বেশির ভাগ পর্যটকের কাছে সেরা মুহূর্ত সারাংকোটের সূর্যোদয়। অন্ধকার থাকতেই বেরিয়ে গাড়িতে ভিউপয়েন্টে ওঠেন, আর আলো ফুটতেই বরফঢাকা চূড়াগুলো প্রথমে গোলাপি, তারপর সোনালি হয়ে ওঠে। দিনে আবহাওয়া মৃদু হলেও ভোরের আগে ওখানে বেশ ঠান্ডা, তাই গরম কাপড় নিন। সাহস থাকলে সারাংকোট থেকে প্যারাগ্লাইডিংও জনপ্রিয়।
পাহাড় লাজুক। পোখারায় দুটি সকাল রাখুন, যাতে একটি মেঘলা সূর্যোদয়ে পুরো দৃশ্যটাই হাতছাড়া না হয়।
কাঠমান্ডু থেকে পোখারা: বিমান না সড়ক?
ফ্লাইট খুবই ছোট, আর ডান দিকে বসলে জানালা দিয়ে পাহাড় দেখা যায়। এতে পুরো একটি দিন বাঁচে, যা এক সপ্তাহের ভ্রমণে অনেক কিছু। দৃষ্টিসীমা কম থাকলে ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হতে পারে, তাই যাত্রার দিনে পরিকল্পনা ঢিলেঢালা রাখুন।
সড়কপথে প্রায় সারা দিন লাগে, নদী-উপত্যকা আর পাহাড়ি গ্রামের মধ্য দিয়ে। পথ সুন্দর, কিন্তু মহাসড়ক আঁকাবাঁকা আর প্রায়ই ধীর, তাই যাঁদের হাতে বাড়তি সময় আছে এবং লম্বা যাত্রায় আপত্তি নেই, তাঁদের জন্য মানানসই। অনেকে এক দিকে বিমানে আর অন্য দিকে সড়কপথে যান।
কখন যাবেন, কী নেবেন
পরিষ্কার পাহাড়ি দৃশ্যের জন্য সাধারণত সেরা সময় অক্টোবর আর নভেম্বর, বর্ষা তখন বাতাস ধুয়ে পরিষ্কার করে দিয়ে যায়। মার্চ আর এপ্রিলও সুন্দর, রডোডেনড্রন ফোটে, যদিও কুয়াশায় দৃশ্য কিছুটা ঝাপসা হতে পারে। মোটামুটি জুন থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষায় মেঘ আর বৃষ্টি থাকে, চূড়াগুলো প্রায়ই ঢাকা পড়ে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি আকাশ পরিষ্কার, তবে ঠান্ডা, বিশেষ করে সকালে।
- যে ঋতুতেই যান, গরম জ্যাকেট আর কয়েক স্তরের কাপড়
- সিঁড়ি আর এবড়োখেবড়ো পুরোনো রাস্তার জন্য আরামদায়ক জুতা
- মন্দির আর মঠের জন্য শালীন পোশাক আর একটি স্কার্ফ
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য নেপাল সাধারণত অন-অ্যারাইভাল ভিসা দিয়ে আসছে, তবে নিয়ম বদলাতে পারে, আর বুকিংয়ের সময় সফটওয়ে ট্রাভেলস বর্তমান শর্তগুলো যাচাই করে নেয়।
এমন এক সপ্তাহের জন্য ফ্লাইট, হোটেল, ট্রান্সফার আর দর্শনীয় স্থান একসঙ্গে রাখা আছে আমাদের নেপাল প্যাকেজে। আপনার তারিখ মিলিয়ে পুরো ভ্রমণ সাজিয়ে বুক করে দিতে পারে সফটওয়ে ট্রাভেলস।