হলিডে3 মিনিটে পড়া
হাউসবোটে টাঙ্গুয়ার হাওর: বর্ষা না শীত, কী নেবেন সঙ্গে
বর্ষা আর শীতে টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউসবোট ভ্রমণ কীভাবে বদলে যায়, আশপাশে কী দেখবেন, আর এই নাজুক জলাভূমিতে কীভাবে দায়িত্ব নিয়ে ঘুরবেন।

বাংলাদেশে খুব কম জায়গাই আছে, যেখানে আকাশটা টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো এত বিশাল মনে হয়। সুনামগঞ্জের খোলা পানিতে ভেসে চলবেন, দিগন্তে মেঘালয়ের পাহাড় নীল রেখার মতো, আর পরিকল্পনা বলতে শুধু পরের বেলার খাবার আর পরের বার পানিতে নামা। হাউসবোট কাজটা সহজ করে দেয়: নৌকাতেই ঘুম, খাওয়া আর আলোর রং বদলানো দেখা, পথ চেনার দায়িত্ব মাঝিদের।
বর্ষা না শীত: দুই রকম হাওর
ঋতুর সঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওর পুরোপুরি বদলে যায়, তাই তারিখ ঠিক করার আগে ভেবে নিন আপনি কী দেখতে চান।
- বর্ষা (মোটামুটি জুন থেকে সেপ্টেম্বর): হাওর ভরে গিয়ে যেন এক বিশাল সমুদ্র। হাউসবোটের আসল মৌসুম এটাই: পানিতে সাঁতার, পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা হিজল-করচের বন, আর পাহাড়ের ওপর নাটকীয় মেঘ।
- শীত (মোটামুটি ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি): পানি নেমে যায়, হাওর ভাগ হয়ে যায় ছোট ছোট বিল আর খালে। চারপাশ শান্ত, আর উত্তর থেকে আসা পরিযায়ী পাখির মৌসুম এটাই। পানি কম থাকলে হাউসবোট সব জায়গায় পৌঁছাতে না-ও পারে।
মাঝের মাসগুলোও সুন্দর হতে পারে, তবে বৃষ্টি আর পানির উচ্চতা বছরভেদে আলাদা হয়। আপনার বোট নিশ্চিত করার আগে আমরা অবস্থা যাচাই করে নিই।
হাউসবোটের দিনরাত
বেশির ভাগ ট্রিপ শুরু হয় সুনামগঞ্জ থেকে। সেখানে বোটে উঠে তাহিরপুর হয়ে খোলা হাওরের দিকে যাত্রা। বোট সাধারণ থেকে আরামদায়ক, নানা রকম হয়, তবে ধরে নিন জায়গা ভাগাভাগি করে থাকতে হবে, কেবিন ছোট, আর ডেকটাই হবে আপনার বসার ঘর। খাবার সাধারণত টাটকা, ঘরোয়া রান্না, প্রায়ই হাওরেরই মাছ দিয়ে।
দিনগুলো ইচ্ছে করেই ধীর। লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতার কাটবেন, ছোট ডিঙিতে করে গাছের ফাঁক দিয়ে ঘুরবেন, আর সূর্য ডোবার সময় ডেকে বসে পানির ওপর আলো দেখবেন। রাত অন্ধকার আর একদম নিস্তব্ধ, আর এখানে আসার বড় কারণও সেটাই।
ওয়াচটাওয়ার, নীলাদ্রি লেক আর শিমুল বাগান
বেশির ভাগ ভ্রমণসূচিতে কয়েকটি জায়গা থাকেই:
- ওয়াচটাওয়ার: হাওরের ভেতরে জলাবনে ঘেরা একটি ভিউপয়েন্ট। বর্ষায় নৌকায় করে যেতে হয়, আর আশপাশে অনেকে সাঁতার কাটেন। ভিড় হয়, তাই সকাল সকাল যান।
- নীলাদ্রি লেক, টেকেরঘাটে: পুরোনো চুনাপাথরের খনি, এখন নীলচে-সবুজ পানিতে ভরা, পেছনে পাহাড়। অল্প হাঁটা আর ছবি তোলার জন্য চমৎকার।
- শিমুল বাগান: যাদুকাটা নদীর কাছে বিশাল এক শিমুলের বাগান। শীতের শেষ থেকে বসন্তের শুরুতে, যখন গাছগুলো লাল ফুলে ঢেকে যায়, তখন সবচেয়ে সুন্দর।
যাদুকাটা নদী আর সীমান্তের পাহাড়ের দিকে মুখ করা ছোট টিলা বারিক্কা টিলাও এই এলাকার জনপ্রিয় একটি জায়গা। পানির উচ্চতা আর আবহাওয়া বুঝে মাঝিরা সময় ঠিক করেন।
জলাভূমির প্রতি সম্মান
টাঙ্গুয়ার হাওর একটি সংরক্ষিত জলাভূমি, আন্তর্জাতিকভাবে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃত। এখানকার মাছ, পাখি আর আশপাশের মানুষের জীবন এর ওপর নির্ভরশীল, আর পর্যটনের চাপ এখানে সত্যিই বাড়ছে। কয়েকটি ছোট অভ্যাস বড় পার্থক্য গড়ে:
- যতটা সম্ভব একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন, আর সব ময়লা সঙ্গে ফিরিয়ে আনুন। পানিতে কিছুই ফেলবেন না।
- গান বন্ধ রাখুন, নয়তো খুব নিচু ভলিউমে। পানির ওপর দিয়ে শব্দ অনেক দূর যায়, পাখি আর গ্রামের মানুষ দুজনেই বিরক্ত হন।
- শীতে পাখির ঝাঁকের পেছনে ছুটবেন না, মাঝিকেও কাছে নিয়ে যেতে বলবেন না।
- কারও ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, বিশেষ করে গ্রামের নারী ও শিশুদের।
- মাঝি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিষেধ করলে সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকবেন না।
হাওরকে যেমন নিস্তব্ধ পেয়েছেন, তেমনই রেখে আসুন। ওই নীরবতার জন্যই তো যাওয়া।
সঙ্গে কী নেবেন
- বারবার ভরা যায় এমন পানির বোতল, আর ফোন ও কাগজপত্রের জন্য ড্রাই ব্যাগ
- দ্রুত শুকায় এমন কাপড়, হালকা রেইন জ্যাকেট আর ভিজলেও সমস্যা নেই এমন স্যান্ডেল
- সানস্ক্রিন, টুপি আর সানগ্লাস, কারণ খোলা পানিতে রোদের ঝলক খুব বেশি
- মশা-পোকা তাড়ানোর লোশন আর নিজের নিয়মিত ওষুধ
- পাওয়ার ব্যাংক, কারণ বোটে চার্জ দেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকতে পারে
- শালীন সাঁতারের পোশাক, তোয়ালে আর ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে এক সেট বাড়তি কাপড়
হালকা ব্যাগ নিন। বোটে জায়গা সবার সঙ্গে ভাগ করতে হয়, আর শক্ত স্যুটকেসের চেয়ে নরম ব্যাগ অনেক সহজে রাখা যায়।
সঠিক মৌসুম আর বোট বাছাই থেকে শুরু করে ঢাকা থেকে যাতায়াত, পথে নীলাদ্রি লেক আর শিমুল বাগানসহ পুরো টাঙ্গুয়ার হাওর হাউসবোট ট্রিপ সাজিয়ে দিতে পারে সফটওয়ে ট্রাভেলস। দেশের ভেতরের আমাদের অন্য হলিডে প্যাকেজগুলোও দেখে নিতে পারেন। আপনার তারিখ আর দলের সদস্যসংখ্যা জানান, বাকিটা আমরা দেখব।
এই ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন?
তারিখ আর কারা যাচ্ছেন জানান, বাকি পরিকল্পনায় আমাদের ডেস্ক সাহায্য করবে।
আমাদের জিজ্ঞেস করুনহলিডে ও প্যাকেজএই ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন?
তারিখ আর কারা যাচ্ছেন জানান, বাকি পরিকল্পনায় আমাদের ডেস্ক সাহায্য করবে।
এই ট্রিপের প্যাকেজ
হলিডে ও প্যাকেজ
আমরা কীভাবে সাহায্য করি দেখুনআরও লেখা পড়ুন

হলিডে3 মিনিটে পড়া
সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় ও জুন-আগস্টের নিষেধাজ্ঞা
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে মে পর্যন্ত খোলা, জুন থেকে আগস্ট বন্ধ। কোন মাসে যাওয়া সবচেয়ে ভালো, মাস ধরে জেনে নিন।

হলিডে3 মিনিটে পড়া
সুন্দরবন একদিনের ভ্রমণ: মোংলা, খুলনা বা সাতক্ষীরা থেকে করমজলসহ আরও
হাতে মাত্র এক দিন? সুন্দরবন একদিনের ভ্রমণ কীভাবে হয়, মোংলা, খুলনা আর সাতক্ষীরা থেকে কোথায় যাওয়া যায়, আর জাহাজ ভ্রমণের তুলনায় কী বাদ পড়ে।

হলিডে2 মিনিটে পড়া
Sundarbans tour for foreigners: a guide for travellers from abroad
Planning a Sundarbans tour in Bangladesh as a foreign visitor? Permits, the separate forest fee, how to get to Khulna from Dhaka, and what to expect on board.
বলুন, আপনি কোথায় যেতে চান।
আপনার রুট, তারিখ বা ভিসার প্রশ্ন জানান। আমাদের একজন কনসালট্যান্ট দেখে দামসহ পরিষ্কার একটা কোটেশন পাঠাবেন।
- +880 1700-000808
- অফিস টাইম
- শনি–বৃহস্পতি, ৯:৩০–১৯:৩০
- অফিস
- ফ্ল্যাট ২সি (২য় তলা), স্কাই হাইটস, হোল্ডিং ৮৪৮, আশকোনা, দক্ষিণখান, Dhaka 1230ম্যাপে দেখুন
পাসপোর্টের তথ্য আর কাগজপত্র গোপন থাকে। শুধু আপনার বুকিংয়ের কাজেই আমরা এগুলো ব্যবহার করি।
