ঢাকা থেকে সুন্দরবন কিভাবে যাব, এটাই সবার প্রথম প্রশ্ন। গাড়িতে চেপে সুন্দরবনের ভেতরে যাওয়া যায় না। পুরো বনটাই জোয়ার-ভাটার নদী আর খালের গোলকধাঁধা, তাই প্রায় সব ভ্রমণ শুরু হয় নৌযানে। আসল প্রশ্ন তাই হলো ঢাকা থেকে খুলনা (যেখান থেকে বেশিরভাগ পর্যটক জাহাজ ছাড়ে) বা মোংলা (করমজল ও হাড়বাড়িয়ায় দিনের ভ্রমণের শুরু) কীভাবে যাবেন।
পদ্মা সেতু সুন্দরবনকে সাপ্তাহিক ছুটির ভ্রমণ বানিয়েছে
২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর আগে ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়া মানে ছিল ফেরি পারাপারসহ লম্বা সড়কযাত্রা, অথবা ঘুরপথে চলা ট্রেন। সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য ভালো পরিকল্পনা আর কয়েক দিনের ছুটি লাগত।
ঢাকা থেকে সুন্দরবন যেতে কত সময় লাগে? এখন বাস আর ট্রেন সেতু দিয়েই নদী পার হয়। সড়কপথে ঢাকা থেকে খুলনা এখন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মতো, আর সুন্দরবন এক্সপ্রেস সেতুর পথে আসায় অন্তত দুই ঘণ্টা সময় বেঁচেছে। মানে অফিস শেষে ঢাকা ছেড়ে ঘুম ভেঙে খুলনায়, আর নাশতার সময়েই জাহাজে। পুরো ৩ দিনের সুন্দরবন ভ্রমণে এখন মাত্র এক দিনের ছুটি হলেই চলে।
ঢাকা থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব
পদ্মা সেতু হয়ে নড়াইলের নতুন রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনা প্রায় ২০৮ কিলোমিটার, পুরোনো পথে যা ছিল প্রায় ৩৭৬ কিলোমিটার। খুলনা থেকে বনের ধারে মোংলা গাড়িতে ঘণ্টাখানেক, আর জাহাজ সেদিন বিকেলেই বনের প্রথম স্টপ হাড়বাড়িয়ায় পৌঁছায়।
ঢাকা থেকে জাহাজে সুন্দরবন?
বেশিরভাগ পর্যটক জাহাজ ঢাকা নয়, খুলনা থেকে ছাড়ে। তাই জাহাজে ঢাকা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ মানে সাধারণত পদ্মা সেতু হয়ে বাস বা ট্রেনে খুলনা, তারপর জাহাজে তিন দিন।
আপনার বিকল্পগুলো নিচে দেওয়া হলো।
পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা বাসে: সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়
ঢাকা থেকে খুলনার বাস এখন পদ্মা সেতু হয়ে যায়, আর যানজট ও কোথা থেকে উঠছেন তার ওপর নির্ভর করে সাধারণত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মতো লাগে। সায়েদাবাদসহ ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে দিন-রাত এসি ও নন-এসি বাস ছাড়ে।
- কাদের জন্য ভালো: বেশিরভাগ যাত্রী, আর যাঁরা রাতে যাত্রা করতে চান।
- পরামর্শ: রাতের যে বাস ভোরে খুলনা পৌঁছায়, সেটায় গেলে হোটেল ভাড়া ছাড়াই সকাল ৭:৩০-এর জাহাজ ধরতে পারবেন।
পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা ট্রেনে: সুন্দরবন এক্সপ্রেসসহ অন্যান্য ট্রেন
ঢাকা-খুলনা পথে বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর ট্রেন চলে, তার মধ্যে সুন্দরবন এক্সপ্রেস এখন পদ্মা সেতু হয়ে যায়। পদ্মা সেতুর পথে চলা নতুন ট্রেনগুলো আরও দ্রুত। ট্রেনের সময়সূচি আর বন্ধের দিন বদলায়, তাই টিকেট কাটার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ সময়সূচি দেখে নিন, আর সাপ্তাহিক ছুটি বা উৎসবের সময় আগেভাগে টিকেট কাটুন।
- কাদের জন্য ভালো: যে পরিবার পথে একটু হাত-পা ছড়িয়ে যেতে চায় আর সড়কের যানজট এড়াতে চায়।
- পরামর্শ: ট্রেন পৌঁছানোর সময় জাহাজে রিপোর্ট করার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন, আর ট্রেন দেরি করলে যেন সমস্যা না হয় সে জন্য হাতে কিছুটা সময় রাখুন।
প্লেনে: যশোর হয়ে
খুলনায় কোনো বিমানবন্দর নেই। সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর যশোর, ঢাকা থেকে অল্প সময়ের ফ্লাইট, আর সেখান থেকে খুলনা গাড়িতে মোটামুটি দেড় ঘণ্টা।
- কাদের জন্য ভালো: যাঁদের হাতে সময় কম, বা যাঁরা লম্বা সড়কযাত্রা এড়াতে চান।
- পরামর্শ: জাহাজ ছাড়ার আগের দিন সকালের ফ্লাইট নিন, বা জাহাজ দেরিতে ছাড়লে সেদিন খুব ভোরের ফ্লাইট। ট্যুরের সঙ্গে ফ্লাইটের টিকেটও আমরা করে দিতে পারি।
খুলনা থেকে সুন্দরবন যাওয়ার উপায়: খুলনা না মোংলা?
- খুলনা ৩ দিন ২ রাতের জাহাজ ভ্রমণের প্রধান ঘাট। জাহাজ সাধারণত ভোরে খুলনা শহরের লঞ্চঘাট থেকে ছাড়ে। আমাদের সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ-এ কিছু জাহাজে সকাল ৭:০০টায় রিপোর্ট করতে হয়, জাহাজ ছাড়ে ৭:৩০-এ।
- মোংলা খুলনা থেকে দক্ষিণে গাড়িতে ঘণ্টাখানেকের পথ, পশুর নদীর তীরে। করমজল বা হাড়বাড়িয়ায় একদিনের ভ্রমণের জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হয় এখান থেকেই।
ঢাকা থেকে সাপ্তাহিক ছুটির পরিকল্পনা (মাত্র এক দিনের ছুটি)
- বৃহস্পতিবার রাত: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে রাতের বাসে খুলনা।
- শুক্রবার ভোর: খুলনা পৌঁছে ঘাটের কাছে চা খেয়ে জাহাজে ওঠা।
- শুক্রবার থেকে রবিবার: হাড়বাড়িয়া, কচিখালী, ডিমের চর, কটকা আর করমজল, সব বেলার খাবার জাহাজে।
- রবিবার সন্ধ্যা: খুলনায় ফেরা, তারপর বাসে সেই রাতেই ঢাকা।
অফিস খোলা শুধু রবিবার, তাই পুরো ভ্রমণে মাত্র এক দিনের ছুটি লাগে।
ঢাকা ছাড়ার আগে
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট সঙ্গে রাখুন। বন বিভাগের অনুমতির জন্য এটি লাগে।
- কয়েক দিন আগে বুক করুন। জাহাজ ছাড়ার আগে অপারেটরকে অনুমতির ব্যবস্থা করতে হয়, তাই শেষ মুহূর্তের বুকিং সবসময় সম্ভব হয় না।
- মৌসুম দেখে নিন। প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে। পড়ুন: সুন্দরবন ভ্রমণের সেরা সময়।
- বাজেট জেনে নিন। দেখুন: জাহাজভেদে সুন্দরবন ভ্রমণ খরচ।
পরিকল্পনা আমাদের হাতে ছাড়ুন
ঢাকা থেকে সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ খুঁজছেন? সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ পেজে আপনার তারিখ জানান। জাহাজ, কেবিন আর রিপোর্ট করার সময় আমরা হোয়াটসঅ্যাপে কনফার্ম করব, যাতে ঠিক কখন খুলনা পৌঁছাতে হবে তা আপনি জানেন।