বাংলাদেশের অনেক ভ্রমণকারীর কাছে কলকাতা যাওয়া ঠিক বিদেশ যাওয়ার মতো লাগে না, বরং মনে হয় অর্ধেক চেনা একটা শহরে বেড়াতে যাওয়া। ভাষা এক, মিষ্টিগুলোও পরিচিত, তবু ট্রাম, পুরোনো বনেদি বাড়ি আর বইয়ের দোকানগুলো শহরটাকে ঢাকার থেকে বেশ আলাদা করে তোলে। যানজট আর আবহাওয়া মাথায় রেখে পরিকল্পনা করলে প্রথমবারের জন্য তিন-চার দিনই যথেষ্ট।
ঢাকা থেকে যাওয়ার উপায়
যাওয়ার তিনটি পথ আছে, প্রতিটি আলাদা ধরনের ভ্রমণের জন্য মানানসই:
- আকাশপথে: সবচেয়ে দ্রুত। ফ্লাইট ছোট, তাই সকালে ঢাকা ছেড়ে দুপুরের খাবারের আগেই কলকাতায় পৌঁছে যেতে পারবেন।
- ট্রেনে: ঢাকা-কলকাতার আন্তঃসীমান্ত ট্রেন চালু থাকলে আরামদায়ক এবং জনপ্রিয়, তবে মাঝে মাঝে সেবা বন্ধ ছিল, তাই পরিকল্পনার আগে খোঁজ নিন।
- সড়কপথে: বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে কোচ চলে। সময় সবচেয়ে বেশি লাগে, ভিড়ের সময় সীমান্ত পারাপারও ধীর হতে পারে, তবে খরচে সাশ্রয়ী।
যে পথেই যান, ভারতীয় ভিসা লাগবে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভারতীয় পর্যটন ভিসা পাওয়ার পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে বদলেছে, তাই কিছু বুক করার আগে সফটওয়ে ট্রাভেলস বর্তমান অবস্থা আর সাধারণত যেসব কাগজ চাওয়া হয় তা যাচাই করে নেয়।
প্রথম দিন: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল আর ময়দান
শুরু করুন শহরের সবচেয়ে জমকালো ভবন দিয়ে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বিশাল বাগানে ঘেরা সাদা মার্বেলের একটি ভবন, ভেতরে বাংলা আর ব্রিটিশ আমলের ইতিহাস নিয়ে জাদুঘর। দিনের শুরুতে যান, তখন আলো নরম আর বাগান তুলনামূলক ফাঁকা।
সেখান থেকে শহরের মাঝখানের বিশাল সবুজ মাঠ ময়দানের ধার ধরে হেঁটে কাছের সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে যান। বিকেলের শেষে নদীর ধারে প্রিন্সেপ ঘাট সূর্যাস্ত দেখার চমৎকার জায়গা, পেছনে বিদ্যাসাগর সেতু।
দ্বিতীয় দিন: হাওড়া ব্রিজ আর কলেজ স্ট্রিট
হাওড়া ব্রিজ কলকাতার প্রতীক, আর সকালেই এটি সবচেয়ে প্রাণবন্ত। খানিকটা হেঁটে দেখুন, তারপর কলকাতার দিকে ব্রিজের পাশেই মল্লিকঘাট ফুলবাজারে যান, যেখানে গাঁদাফুলের মালা স্তূপ করে বিক্রি হয়। হুগলি নদী পার হওয়া ছোট ফেরিতে চড়লে পানির ওপর থেকে ব্রিজের দারুণ দৃশ্য দেখা যায়।
দুপুরের খাবারের পর চলে যান বিখ্যাত বইবাজার কলেজ স্ট্রিটে, যেখানে ফুটপাত জুড়ে দীর্ঘ পথ ধরে বইয়ের দোকান। বইপ্রেমীরা এখানে পুরো বিকেল কাটিয়ে দিতে পারেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম লেখক আর ছাত্রদের আড্ডার জায়গা ইন্ডিয়ান কফি হাউসে এক কাপ কফি খেয়ে যান।
তৃতীয় দিন: পার্ক স্ট্রিটের খাবার আর নিউ মার্কেট
পার্ক স্ট্রিট শহরের ক্লাসিক খাবারের রাস্তা, পুরোনো রেস্তোরাঁ, বেকারি আর ক্যাফে পাশাপাশি। ফ্লুরিজ তার নাশতা আর পেস্ট্রির জন্য পরিচিত, আর ধীরেসুস্থে রাতের খাবারের জন্য এলাকাটা ভালো। কলকাতা বিখ্যাত তার কাঠি রোল, ফুচকা আর রসগোল্লা-সন্দেশের অসংখ্য মিষ্টির দোকানের জন্যও।
কাছেই নিউ মার্কেট, কেনাকাটার আসল জায়গা। শাড়ি, জুতা, কাপড়, ব্যাগ আর শুকনো ফল সবই পাবেন, মূল ভবনের চারপাশের সরু গলিতেও দোকানের সারি। কয়েকটি পরামর্শ:
- কেনার আগে কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখুন, আর ভদ্রভাবে দরদাম করুন।
- ভিড়ের গলিতে ব্যাগ সামনের দিকে রাখুন।
- লাগেজে জায়গা খালি রাখুন, কারণ প্রায় সবাই পরিকল্পনার চেয়ে বেশি কেনেন।
সকালে ঘোরাঘুরি, সন্ধ্যায় কেনাকাটা। এভাবে কলকাতার যানজট সহজ হয়, আপনিও কম ক্লান্ত হন।
শহরে চলাচল আর কখন যাবেন
দ্রুত শহর পার হওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় কলকাতা মেট্রো। হলুদ ট্যাক্সি আর অ্যাপভিত্তিক গাড়ি সহজেই পাওয়া যায়, আর অভিজ্ঞতার জন্য একবার ট্রামে চড়ে দেখা উচিত।
সবচেয়ে আরামদায়ক সময় সাধারণত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি, তখন আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে। শরতে দুর্গাপূজার সময় শহরকে সবচেয়ে উৎসবমুখর দেখা যায়, তবে হোটেল ভরে যায় আর রাস্তায় প্রচণ্ড ভিড় হয়, তাই অনেক আগে বুক করুন। গ্রীষ্ম গরম আর আর্দ্র, বর্ষায় ভারী বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতা হয়।
ফ্লাইট, শহরের কেন্দ্রে হোটেল আর ট্রান্সফার একসঙ্গে গুছিয়ে নিতে চাইলে আমাদের কলকাতা প্যাকেজ দিয়ে শুরু করতে পারেন। আপনার তারিখ মিলিয়ে ভ্রমণ সাজানো, বর্তমান ভিসা পরিস্থিতি যাচাই আর বুকিং, সবই করে দিতে পারে সফটওয়ে ট্রাভেলস।