হলিডে3 মিনিটে পড়া
শ্রীমঙ্গলের চা-রাজ্য: বাগান, উল্লুক আর সাত রঙের চা
সবুজ চা-বাগানে হাঁটা, লাউয়াছড়ায় উল্লুকের ডাক শোনা, বিখ্যাত সাত রঙের চায়ে চুমুক, আর ঢাকা থেকে ট্রেনে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানীতে।

সবুজ, নিরিবিলি আর এক কাপ ভালো চায়ের খোঁজে ঢাকার মানুষ যায় শ্রীমঙ্গলে। মৌলভীবাজার জেলার এই শহরকে ঘিরে আছে ঢেউখেলানো চা-বাগান, যেখানে পরিপাটি সারি সারি চা-গাছ নিচু টিলার গা বেয়ে ওঠানামা করে। এখানে বড় বড় দর্শনীয় স্থান নেই। এটা হাঁটার, ধীরে চলার আর প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার জায়গা; দুই-তিন দিনেই মনে হবে পুরো একটা ছুটি কাটিয়ে ফেলেছেন।
চা-বাগানে হাঁটা
শ্রীমঙ্গলের প্রাণ এই চা-বাগান। সবচেয়ে ভালো সময় ভোরবেলা, যখন ছায়াগাছের ফাঁকে কুয়াশা ঝুলে থাকে আর আলো থাকে নরম। অনেক বাগানেই হাঁটার মতো রাস্তা ও পথ আছে, তবে এগুলো চালু বাগান ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা; তাই পথেই থাকুন, কোনো অংশে ঢোকার আগে অনুমতি নিন।
চা-শ্রমিকদের কাজ করতে দেখলে, যাঁদের বেশিরভাগই প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে বসবাসকারী চা-বাগান জনগোষ্ঠীর নারী, ভদ্র থাকুন এবং ছবি তোলার আগে জিজ্ঞেস করে নিন। লম্বা লেন্সের চেয়ে একটু হাসি আর দুটো কথা অনেক বেশি কাজে দেয়।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটও শ্রীমঙ্গলে; চা কীভাবে চাষ হয় তা জানার আগ্রহ থাকলে এর পরিপাটি প্রাঙ্গণে একবার থামতে পারেন।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও উল্লুক
শহরের ঠিক বাইরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, দেশের সবচেয়ে পরিচিত বনগুলোর একটি। এখানে থাকে পশ্চিমা উল্লুক, বাংলাদেশের একমাত্র এপ জাতীয় প্রাণী; ভাগ্য ভালো থাকলে গাছের উঁচু ডালে দেখার অনেক আগেই তাদের জোরালো ডাক কানে আসবে। মুখপোড়া হনুমান, বানর আর নানা পাখিও এখানে থাকে।
- ভোরে যান, নিঃশব্দে হাঁটুন, গলা নিচু রাখুন। শব্দ পেলে প্রাণীরা সরে যায়।
- স্থানীয় গাইড নিন। তাঁরা পথ চেনেন, আর জানেন সম্প্রতি উল্লুক কোথায় দেখা গেছে।
- বর্ষার মাসগুলোতে জোঁক বেশি থাকে, তাই বন্ধ জুতা আর লম্বা মোজা পরুন।
- নিজের ময়লা নিজেই ফিরিয়ে আনুন, আর সম্ভব হলে প্লাস্টিকের বোতল ও প্যাকেট শহরেই রেখে যান।
বনের ভেতরে ও আশপাশে আছে খাসিয়া পুঞ্জি, যেখানে পরিবারগুলো গাছে পান চাষ করে। এগুলো মানুষের ঘরবাড়ি, দর্শনীয় বস্তু নয়; তাই কেবল গাইডের সঙ্গে যান এবং ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
মাধবপুর লেক
অল্প দূরে কমলগঞ্জে, একটি চা-বাগানের ভেতরে মাধবপুর লেক; চারদিকে চা-ঢাকা টিলার মাঝে লম্বা, শান্ত জলরাশি। মৌসুমে লেকের কিছু অংশ শাপলায় ঢেকে যায়। লেকজুড়ে চেনা দৃশ্যটা দেখতে কোনো উঁচু জায়গায় উঠুন, আর নরম আলো ও কম ভিড়ের জন্য যান বিকেলের শেষে।
বিখ্যাত সাত রঙের চা
নীলকণ্ঠ টি কেবিনের কল্যাণে বিখ্যাত হয়ে ওঠা স্তরে স্তরে সাজানো 'সাত রঙের চা' না খেলে সফর অসম্পূর্ণ। প্রতিটি স্তর আলাদা চা, আলাদা রং আর স্বাদ, এত যত্নে ঢালা যে গ্লাসে স্তরগুলো আলাদা থাকে। ওপর থেকে ধীরে ধীরে এক স্তর এক স্তর করে চুমুক দিন, দেখুন কোনটা সবচেয়ে ভালো লাগে। তারপর এক কাপ সাধারণ স্থানীয় চা-ও খেয়ে দেখুন; এই অঞ্চলের পরিচয় তো এটাই।
বাড়ির জন্য খোলা চা কিনুন শহরের ভালো কোনো দোকান থেকে। স্টেশনের বাক্সবন্দি চায়ের চেয়ে এটা অনেক ভালো উপহার।
ঢাকা থেকে ট্রেনে যাওয়া
শ্রীমঙ্গল যাওয়ার সবচেয়ে সুন্দর উপায় ট্রেন। ঢাকা-সিলেট রুটের আন্তঃনগর ট্রেনগুলো এখানে থামে, আর পথে পড়ে ধানখেত, গ্রাম, আর শেষের দিকে প্রথম চা-বাগানগুলো। সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির আগে টিকেট দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাই আগেভাগে কাটুন। প্রাইভেট গাড়িতে যেতে চাইলে সড়কপথও ভালো।
দর্শনীয় জায়গাগুলো ছড়ানো-ছিটানো, তাই ঘোরার জন্য সারা দিনের জন্য একটা গাড়ি বা সিএনজি ভাড়া নেওয়াই সুবিধাজনক। বর্ষার পরের মাসগুলো, যখন টিলা সবুজ আর বাতাস পরিষ্কার, বিশেষ করে মনোরম। শীতকাল ঠান্ডা ও শুকনো, হাঁটার জন্য ভালো। অনেকেই এক সফরে শ্রীমঙ্গলের সঙ্গে সিলেটের পাহাড় আর নদী মিলিয়ে নেন।
আপনার ট্রেন বা গাড়ি, থাকার জায়গা আর স্থানীয় গাইডের ব্যবস্থা করে দিতে পারে সফটওয়ে ট্রাভেলস। দেখুন আমাদের শ্রীমঙ্গল প্যাকেজ, অথবা লম্বা সফরের জন্য সিলেট ও শ্রীমঙ্গল প্যাকেজ।
এই ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন?
তারিখ আর কারা যাচ্ছেন জানান, বাকি পরিকল্পনায় আমাদের ডেস্ক সাহায্য করবে।
আমাদের জিজ্ঞেস করুনহলিডে ও প্যাকেজএই ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন?
তারিখ আর কারা যাচ্ছেন জানান, বাকি পরিকল্পনায় আমাদের ডেস্ক সাহায্য করবে।
এই ট্রিপের প্যাকেজ
হলিডে ও প্যাকেজ
আমরা কীভাবে সাহায্য করি দেখুনআরও লেখা পড়ুন

ভ্রমণ টিপস4 মিনিটে পড়া
সিলেট ও শ্রীমঙ্গল: ঢাকা থেকে ট্রেন, সড়ক নাকি বিমান?
ঢাকা থেকে সিলেট ও শ্রীমঙ্গল কীভাবে যাবেন, কোন শহর আগে ঘুরবেন, কত দিন রাখবেন, আর সাপ্তাহিক ও উৎসবের ছুটির ভিড় কীভাবে এড়াবেন।

হলিডে3 মিনিটে পড়া
জলের পথে সিলেট: রাতারগুল, বিছনাকান্দি, জাফলং ও লালাখাল
রাতারগুল, বিছনাকান্দি, জাফলং ও লালাখাল: সিলেটের কোন জায়গা বর্ষায় সবচেয়ে সুন্দর, কোনটি শীতে, আর নদীতে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন।

হলিডে3 মিনিটে পড়া
সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় ও জুন-আগস্টের নিষেধাজ্ঞা
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে মে পর্যন্ত খোলা, জুন থেকে আগস্ট বন্ধ। কোন মাসে যাওয়া সবচেয়ে ভালো, মাস ধরে জেনে নিন।
বলুন, আপনি কোথায় যেতে চান।
আপনার রুট, তারিখ বা ভিসার প্রশ্ন জানান। আমাদের একজন কনসালট্যান্ট দেখে দামসহ পরিষ্কার একটা কোটেশন পাঠাবেন।
- +880 1700-000808
- অফিস টাইম
- শনি–বৃহস্পতি, ৯:৩০–১৯:৩০
- অফিস
- ফ্ল্যাট ২সি (২য় তলা), স্কাই হাইটস, হোল্ডিং ৮৪৮, আশকোনা, দক্ষিণখান, Dhaka 1230ম্যাপে দেখুন
পাসপোর্টের তথ্য আর কাগজপত্র গোপন থাকে। শুধু আপনার বুকিংয়ের কাজেই আমরা এগুলো ব্যবহার করি।

