হলিডে4 মিনিটে পড়া
এক ভ্রমণে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে হানিমুন
আগে চা-পাহাড় আর মন্দির, শেষে নিরিবিলি দ্বীপ: কত রাত কোথায়, মালদ্বীপে কোথায় থাকবেন আর ঢাকা থেকে দুই দেশের হানিমুন কখন করবেন।

কোনো দম্পতি হানিমুনে চান ঘুরে বেড়ানোর রোমাঞ্চ, কেউ চান একেবারে কিছু না করে বিশ্রাম। শ্রীলঙ্কা আর মালদ্বীপ মিলিয়ে দুটোই পাওয়া যায়, মাঝে লম্বা যাত্রার ঝামেলা ছাড়া। কলম্বো থেকে মালে অল্প সময়ের ফ্লাইট, তাই ভ্রমণের প্রথম ভাগে কুয়াশাঢাকা পাহাড় আর পুরোনো মন্দির ঘুরে, শেষটা কাটাতে পারেন উষ্ণ স্বচ্ছ পানিতে পা ডুবিয়ে।
কেন আগে পাহাড়, শেষে দ্বীপ
কোনটা আগে, কোনটা পরে, এটা মানুষ যতটা ভাবেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কা হলো সক্রিয় অংশ: ভোরে ওঠা, পাহাড়ি পথে গাড়ি, ট্রেন যাত্রা, মন্দির দর্শন আর অনেক হাঁটা। মালদ্বীপ হলো পুরস্কার। আগে দ্বীপে গেলে পরের সড়কযাত্রা খাটুনি মনে হতে পারে। দ্বীপটা শেষে রাখলে ক্লান্ত হয়ে নয়, ঝরঝরে হয়ে দেশে ফিরবেন।
ফ্লাইটের দিক থেকেও এটা সুবিধাজনক। প্রচলিত রুট হলো ঢাকা থেকে কলম্বো, কলম্বো থেকে মালে, আর মালে থেকে ঢাকা, ফেরার পথে প্রায়ই একটি কানেকশনসহ। আপনার তারিখ অনুযায়ী সফটওয়ে ট্রাভেলস বিকল্পগুলো তুলনা করে সুবিধাজনক কানেকশন ঠিক করে দিতে পারে।
কত রাত কোথায় কাটাবেন
একটাই সঠিক উত্তর নেই, তবে বেশিরভাগ দম্পতির জন্য এই ভাগগুলো ভালো কাজ করে:
- ৭ রাত: শ্রীলঙ্কায় ৪ (ক্যান্ডি ও পাহাড়ি অঞ্চল), মালদ্বীপে ৩
- ৯ রাত: শ্রীলঙ্কায় ৫, সঙ্গে এলার কাছে বা দক্ষিণ উপকূলে একটি বিরতি, আর মালদ্বীপে ৪
- ১১ রাত বা তার বেশি: ধীরেসুস্থে শ্রীলঙ্কায় ৬ বা ৭, মালদ্বীপে ৪ বা ৫
মালদ্বীপে তিন রাতের কম না রাখার চেষ্টা করুন। প্রথম দিনটা যায় ট্রান্সফার আর গুছিয়ে বসতে, শেষ সকালটা যায় ব্যাগ গোছাতে। শ্রীলঙ্কায় প্রতি রাতে হোটেল বদলাবেন না। প্রতিটি জায়গায় দুই রাত থাকলে শুধু ঘুমানো নয়, জায়গাটা উপভোগ করার সময় পাবেন।
দম্পতিদের জন্য সহজ একটি শ্রীলঙ্কা রুট
শুরু করুন ক্যান্ডি থেকে: লেক, টেম্পল অব দ্য টুথ আর পেরাদেনিয়ার বোটানিক্যাল গার্ডেন। এরপর উঠে যান নুয়ারা এলিয়ার চা-বাগান এলাকায়, তারপর পাহাড়ের ভেতর দিয়ে বিখ্যাত ট্রেনে চলুন এলার দিকে, যেখানে হেঁটে লিটল অ্যাডামস পিকে ওঠা যায় আর দেখা যায় নাইন আর্চ ব্রিজ। হাতে আরও রাত থাকলে দক্ষিণ উপকূলের গল দুর্গে সূর্যাস্তের সময় ঘুরে বেড়ানো দারুণ লাগবে, তারপর উড়ে যান মালদ্বীপে।
মালদ্বীপে কোথায় থাকবেন
পুরো ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত এটাই, আর মূলত দুই ধরনের থাকার ব্যবস্থার মধ্যে বেছে নিতে হয়।
রিসোর্ট দ্বীপ মানে এক দ্বীপে একটিই হোটেল। পাবেন নিজস্ব সৈকত, পানির ওপর বা সৈকতের ধারে ভিলা, রেস্তোরাঁ আর সাধারণত স্নরকেলিংয়ের জন্য কাছের প্রবালপ্রাচীর। রিসোর্ট কত দূরে তার ওপর নির্ভর করে মালে থেকে যেতে হয় স্পিডবোট, সি-প্লেন অথবা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট আর নৌকায়। হানিমুনের চেনা ছবি এটাই, আর সবচেয়ে নিরিবিলিও।
লোকাল আইল্যান্ডের গেস্টহাউসে থাকলে আপনি থাকবেন মালদ্বীপের পরিবারগুলোর পাশে, এমন দ্বীপে যেখানে মসজিদ, ছোট ক্যাফে আর বালুচর ও প্রবালপ্রাচীরে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা আছে। খরচ সাধারণত কম, অভিজ্ঞতাও বেশি খাঁটি। তবে স্থানীয় রীতি মানতে হয়: লোকালয়ে শালীন পোশাক পরুন, সাঁতারের পোশাক শুধু পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত সৈকতে, আর মনে রাখবেন লোকাল আইল্যান্ডে মদ পরিবেশন করা হয় না।
অনেক নবদম্পতির কাছে রিসোর্টই এগিয়ে থাকে, তবে কয়েক রাত লোকাল আইল্যান্ডে আর এক-দুই রাত রিসোর্টে কাটানো ভালো মাঝামাঝি সমাধান। বিস্তারিত পাবেন আমাদের লোকাল আইল্যান্ড না রিসোর্ট গাইডে।
কখন যাবেন
এই দুই দেশ একসঙ্গে ঘোরার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সময় মোটামুটি ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল। তখন মালদ্বীপে শুষ্ক মৌসুম, আর শ্রীলঙ্কার পাহাড়ি অঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে সাধারণত সবচেয়ে ভালো আবহাওয়া থাকে। মে থেকে সেপ্টেম্বরের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মালদ্বীপ আর শ্রীলঙ্কার পশ্চিম ও দক্ষিণে বেশি বৃষ্টি আনে, যদিও তখন শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূলের মৌসুম। মালদ্বীপ সারা বছরই উষ্ণ, তাই বর্ষার মৌসুমেও ভ্রমণ সুন্দর হতে পারে, বৃষ্টি আসে আর চলে যায়।
বাংলাদেশে বিয়ের মৌসুম আর ভ্রমণের ব্যস্ততম মাসগুলো একই সময়ে পড়ে, তাই বিয়ের তারিখ ঠিক হলেই যত দ্রুত সম্ভব ফ্লাইট আর মালদ্বীপের থাকার জায়গা বুক করুন।
ভিসা ও ছোটখাটো প্রস্তুতি
শ্রীলঙ্কা সাধারণত ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন নিতে বলে, আর নিশ্চিত হোটেল বুকিং ও ফেরার টিকেট থাকলে মালদ্বীপ সাধারণত পর্যটকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিয়ে এসেছে। দুই দেশের নিয়মই মাঝে মাঝে বদলায়, তাই বুকিংয়ের সময় সফটওয়ে ট্রাভেলস হালনাগাদ শর্তগুলো যাচাই করে নেয়।
- মন্দিরের জন্য কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা শালীন পোশাক নিন, আর মনে রাখবেন জুতা খুলে ঢুকতে হয়
- পাহাড়ি অঞ্চলের ঠান্ডা সন্ধ্যার জন্য একটি হালকা জ্যাকেট রাখুন
- প্রবালের জন্য নিরাপদ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, আর স্নরকেলিংয়ের সময় কখনো প্রবালের ওপর দাঁড়াবেন না
- হোটেলকে জানিয়ে রাখুন এটা আপনাদের হানিমুন, অনেকে দিনটিকে একটু বিশেষ করে তুলতে পছন্দ করে
পুরো আয়োজন একবারে কাউকে দিয়ে করাতে চাইলে সফটওয়ে ট্রাভেলস ফ্লাইট, হোটেল আর ট্রান্সফারসহ আপনার শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ হানিমুন পরিকল্পনা ও বুক করে দিতে পারে, অথবা শুধু একটি মালদ্বীপ ভ্রমণ।
এই ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন?
তারিখ আর কারা যাচ্ছেন জানান, বাকি পরিকল্পনায় আমাদের ডেস্ক সাহায্য করবে।
আমাদের জিজ্ঞেস করুনহলিডে ও প্যাকেজএই ট্রিপের পরিকল্পনা করছেন?
তারিখ আর কারা যাচ্ছেন জানান, বাকি পরিকল্পনায় আমাদের ডেস্ক সাহায্য করবে।
এই ট্রিপের প্যাকেজ
হলিডে ও প্যাকেজ
আমরা কীভাবে সাহায্য করি দেখুনআরও লেখা পড়ুন

ভ্রমণ টিপস3 মিনিটে পড়া
মালদ্বীপে লোকাল আইল্যান্ড না রিসোর্ট: কোথায় থাকবেন
লোকাল আইল্যান্ডের গেস্টহাউস নাকি প্রাইভেট রিসোর্ট? মালদ্বীপে যাতায়াত, পোশাক, খাবার আর বাজেটে কী পার্থক্য, আর আপনার জন্য কোনটি ভালো।

হলিডে4 মিনিটে পড়া
শ্রীলঙ্কার ক্লাসিক রুট: ক্যান্ডি, চা-পাহাড় আর সমুদ্রতীর
প্রথমবারের শ্রীলঙ্কা রুট: ক্যান্ডির মন্দির, নুয়ারা এলিয়ার চা-বাগান, এলার পথে পাহাড়ি ট্রেন আর দক্ষিণ উপকূল, কত দিন লাগবে তাসহ।

হলিডে3 মিনিটে পড়া
সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় ও জুন-আগস্টের নিষেধাজ্ঞা
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে মে পর্যন্ত খোলা, জুন থেকে আগস্ট বন্ধ। কোন মাসে যাওয়া সবচেয়ে ভালো, মাস ধরে জেনে নিন।
বলুন, আপনি কোথায় যেতে চান।
আপনার রুট, তারিখ বা ভিসার প্রশ্ন জানান। আমাদের একজন কনসালট্যান্ট দেখে দামসহ পরিষ্কার একটা কোটেশন পাঠাবেন।
- +880 1700-000808
- অফিস টাইম
- শনি–বৃহস্পতি, ৯:৩০–১৯:৩০
- অফিস
- ফ্ল্যাট ২সি (২য় তলা), স্কাই হাইটস, হোল্ডিং ৮৪৮, আশকোনা, দক্ষিণখান, Dhaka 1230ম্যাপে দেখুন
পাসপোর্টের তথ্য আর কাগজপত্র গোপন থাকে। শুধু আপনার বুকিংয়ের কাজেই আমরা এগুলো ব্যবহার করি।

