ছোট্ট একটি দ্বীপে শ্রীলঙ্কা অবাক করার মতো অনেক কিছু ধরে রেখেছে। এক সপ্তাহেই আপনি পবিত্র মন্দিরের রাজকীয় শহর থেকে চা-ঢাকা ঠান্ডা পাহাড়ে যেতে পারেন, এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর রেলপথগুলোর একটিতে চড়তে পারেন, আর শেষ করতে পারেন নারকেলগাছে ঘেরা সৈকতে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়াও সহজ, আর ভাত, তরকারি আর নারকেলের খাবার এতটাই চেনা লাগে যে নতুন হয়েও মন ভরে যায়।
শুরু ক্যান্ডি থেকে
প্রথম ভ্রমণ সাধারণত শুরু হয় কলম্বো বা বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে শেষ রাজধানী ক্যান্ডিতে গিয়ে। শহরটি একটি লেক ঘিরে গড়ে উঠেছে, আর লেকের পাড়েই টেম্পল অব দ্য টুথ, যেখানে বুদ্ধের একটি দাঁতের স্মারক রাখা আছে; এটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ উপাসনালয়। ঢোলের শব্দ শুনতে ভোরে বা প্রার্থনার সময়ে যান, আর শ্রদ্ধার সঙ্গে পোশাক পরুন: কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা, জুতা প্রবেশপথে খুলে রাখা।
ক্যান্ডিকে পুরো একটা দিন দিন। লেকের চারপাশে হাঁটুন, শহরের বাইরে পেরাদেনিয়ার রয়্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেনে ধীরেসুস্থে একটা সকাল কাটান, আর সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক নৃত্যের অনুষ্ঠান দেখতে পারেন। ক্যান্ডির আগে বাড়তি একদিন থাকলে সিগিরিয়ার পাথুরে দুর্গ জনপ্রিয় একটি বিকল্প, তবে এতে গাড়িতে সময় বাড়ে।
নুয়ারা এলিয়ার চা-বাগানের দেশে
ক্যান্ডি থেকে রাস্তা উঠে যায় ঝরনা আর অগণিত সারি সারি চা-গাছের ভেতর দিয়ে। পাহাড়ের অনেক উঁচুতে নুয়ারা এলিয়া, যেখানে স্পষ্টতই ঠান্ডা বেশি; আছে ঔপনিবেশিক আমলের বাংলো, ঘোড়দৌড়ের মাঠ আর গ্রেগরি লেক। অনেকে একে লিটল ইংল্যান্ড বলেন, আর সন্ধ্যায় একটা জ্যাকেট থাকলে খুশিই হবেন।
এখানকার আসল আকর্ষণ চা নিজেই। অনেক বাগানে দর্শনার্থীরা দেখতে পারেন পাতা কীভাবে শুকানো, মোড়ানো আর প্রক্রিয়া করা হয়, তারপর ঢালের দৃশ্য দেখতে দেখতে চায়ের স্বাদ নেওয়া যায়। পাহাড়ের গায়ে প্রায়ই চা-শ্রমিকদের কাজ করতে দেখবেন; কাছ থেকে ছবি তোলার আগে হাসিমুখে অনুমতি নিন।
এলার পথে পাহাড়ি ট্রেন
পাহাড়ি অঞ্চলের এই রেলপথ বিশ্বের অন্যতম সেরা ট্রেন যাত্রা। চা-বাগান, সুড়ঙ্গ আর গভীর উপত্যকার পাশ দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে। অনেকে নুয়ারা এলিয়ার কাছে নানু ওয়া স্টেশন থেকে, কিংবা লম্বা যাত্রার জন্য ক্যান্ডি থেকে ট্রেনে ওঠেন, গন্তব্য এলা।
- জনপ্রিয় অংশগুলোর রিজার্ভ আসন ফুরিয়ে যেতে পারে, তাই সম্ভব হলে আগে বুক করুন
- পারলে উপত্যকার দৃশ্যের দিকে বসুন, আর দরজার কাছে মেঝেতে ব্যাগ রাখবেন না
- ট্রেন দেরি করতে পারে, তাই পৌঁছেই কোনো আঁটসাঁট পরিকল্পনা রাখবেন না
- ছবি তুলতে খোলা দরজার কাছে দাঁড়ালে শক্ত করে ধরে থাকুন
এলা পাহাড়ের মাঝে একটি নিরিবিলি গ্রাম। সহজ পথে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখতে হেঁটে উঠুন লিটল অ্যাডামস পিকে, আর নাইন আর্চ ব্রিজে গিয়ে দেখুন জঙ্গলের ওপর পাথরের সেতু পেরিয়ে ট্রেন যাচ্ছে।
দিনের আলোয় একবার এই ট্রেনে চড়লেই বুঝবেন, কেন মানুষ পুরো ভ্রমণ এটাকে ঘিরে সাজায়।
শেষটা দক্ষিণ উপকূলে
এলা থেকে রাস্তা নেমে যায় উষ্ণ দক্ষিণে। চাইলে চিতাবাঘ, হাতি আর পাখির জন্য পরিচিত ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কে সাফারি করে যেতে পারেন, অথবা সরাসরি মিরিসা ও উনাওয়াতুনার সৈকতে। ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ গল শহরের ওলন্দাজ আমলের পুরোনো দুর্গের প্রাচীর ধরে সন্ধ্যায় হাঁটা দারুণ, তারপর ফ্লাইটের জন্য ফিরে যান কলম্বোতে।
একটা কথা জেনে রাখুন: দক্ষিণ ও পশ্চিম উপকূল সবচেয়ে ভালো থাকে মোটামুটি ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল। মে থেকে সেপ্টেম্বরের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এদিকে বেশি বৃষ্টি আনে, তখন বরং পূর্ব উপকূলের মৌসুম। পাহাড়ে প্রায় সারা বছরই কুয়াশা আর স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকতে পারে, সেটাই এর সৌন্দর্যের অংশ।
কত দিন লাগবে
ভ্রমণের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী রুটটি সাধারণত এভাবে সাজানো যায়:
- ৬ থেকে ৭ দিন: ক্যান্ডি, নুয়ারা এলিয়া, এলা পর্যন্ত ট্রেন, তারপর কলম্বোতে ফেরা; সময় থাকলে সৈকতে অল্প বিরতি
- ৮ থেকে ১০ দিন: প্রতিটি জায়গায় দুই রাত আর দক্ষিণ উপকূলে সময় রেখে পুরো রুট
- ১১ দিন বা তার বেশি: সঙ্গে সিগিরিয়া ও ঐতিহাসিক স্থান, একটি সাফারি, বা মালদ্বীপে কয়েক রাত
মানচিত্রে দূরত্ব কম মনে হলেও পাহাড়ি রাস্তা আঁকাবাঁকা আর ধীর, তাই চালকসহ একটি প্রাইভেট গাড়ি জায়গাগুলো জোড়ার সবচেয়ে আরামদায়ক উপায়। শ্রীলঙ্কা সাধারণত ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন নিতে বলে। নিয়ম মাঝে মাঝে বদলায়, তাই বুকিংয়ের সময় সফটওয়ে ট্রাভেলস হালনাগাদ শর্তগুলো যাচাই করে নেয়।
সফটওয়ে ট্রাভেলস হোটেল, চালকসহ গাড়ি আর ট্রেনের টিকেটসহ আপনার শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ পরিকল্পনা ও বুক করে দিতে পারে, অথবা শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ভ্রমণে যোগ করতে পারে দ্বীপে কয়েকটি দিন।