সুন্দরবন একটি সংরক্ষিত বন, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য আর ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য, তাই প্রতিটি ভ্রমণ চলে বন বিভাগের নিয়মে। সুন্দরবন ভ্রমণ নীতিমালা মানা কঠিন কিছু নয়, তবে কয়েকটি বিষয়ে অনেকেই ভুল করেন, আর জাতীয় পরিচয়পত্র ভুলে গেলে জাহাজে ওঠাই আটকে যেতে পারে। কী জানতে হবে আর কী গুছিয়ে নেবেন, নিচে দেওয়া হলো।
অনুমতি: কী কী লাগবে
নিজে নিজে বনে ঢোকা যায় না। প্রতিটি ভ্রমণে বন বিভাগের অনুমতি লাগে, আর রাতে থাকার ভ্রমণে সেটা করেন ট্যুর অপারেটর। আমাদের সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ-এ অনুমতির ব্যবস্থা আমরাই করি।
- বাংলাদেশি নাগরিক: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র। শিশুদের জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ।
- বিদেশি নাগরিক: আপনার পাসপোর্ট। বিদেশিদের বনের ফি আলাদা এবং বেশি।
- কয়েক দিন আগে বুক করুন। জাহাজ ছাড়ার আগে অনুমতি তৈরি থাকতে হয়, তাই একই দিনে বুকিং সাধারণত সম্ভব হয় না।
- মৌসুম: ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন পর্যটকদের জন্য বন্ধ। পড়ুন: সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।
সুন্দরবন ভ্রমণের নিয়ম
- ড্রোন নিষিদ্ধ। সুন্দরবনে ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ।
- অস্ত্র নিয়ে ঢোকা যাবে না, শুধু বনরক্ষী অস্ত্র রাখেন।
- প্রতিটি হাঁটায় গাইড আর বনরক্ষীর সঙ্গে থাকুন। কখনো পথ ছেড়ে বা একা বনে ঢুকবেন না।
- পশুপাখিকে খাবার দেবেন না, বিরক্ত করবেন না। করমজলের বানরেরা যতই চাক।
- একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক নয়। বন বিভাগ প্লাস্টিকের বোতল আর ফেলে দেওয়ার প্লাস্টিকে কড়াকড়ি করেছে। আবার ভরা যায় এমন বোতল নিন, আর সব আবর্জনা জাহাজে ফিরিয়ে আনুন।
- শব্দ কম করুন। বনের পথে জোরে গান নয়। শব্দে বন্যপ্রাণী লুকিয়ে যায়, চুপচাপ দল বেশি দেখে।
- ছোট নৌকায় লাইফ জ্যাকেট পরুন, খালে ঘোরার সময় সবসময়।
- পেশাদার ক্যামেরা সরঞ্জামের জন্য আলাদা ফি লাগতে পারে। যাওয়ার আগে জেনে নিন।
সুন্দরবন ট্যুরে কী পরবেন
- হালকা সুতির কাপড়, সবুজ, বাদামি বা ধূসরের মতো হালকা রঙে। উজ্জ্বল রং আর কড়া পারফিউম বন্যপ্রাণী দূরে সরিয়ে দেয়।
- বনে হাঁটার সময় লম্বা প্যান্ট আর ফুলহাতা জামা, পোকামাকড় আর রোদ থেকে বাঁচতে।
- বন্ধ জুতা বা পেছনে ফিতাওয়ালা স্যান্ডেল। পথ কাদাময় হতে পারে, আর কটকা থেকে জামতলা সৈকতের হাঁটা এক দিকে প্রায় ৪৫ মিনিট।
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে একটা গরম কাপড়। সন্ধ্যায় ডেকে ঠান্ডা লাগে।
- সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হালকা রেইনকোট।
- টুপি আর সানগ্লাস। খোলা ডেকে ছায়া কম।
৩ দিনের জাহাজ ভ্রমণে সঙ্গে কী নেবেন
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট
- তিন দিনের কাপড়, সঙ্গে এক সেট বাড়তি
- হাঁটার জুতা আর জাহাজের জন্য স্যান্ডেল
- মাস অনুযায়ী গরম কাপড় বা রেইনকোট
- টুপি, সানগ্লাস আর সানস্ক্রিন
- মশা-পোকা তাড়ানোর লোশন
- আবার ভরা যায় এমন পানির বোতল
- পাওয়ার ব্যাংক। জাহাজে চার্জের জায়গা সীমিত থাকতে পারে।
- নিজের ওষুধ, দরকার হলে বমিভাবের ওষুধ
- থাকলে বাইনোকুলার, পাখি আর হরিণ দেখার জন্য
- সন্ধ্যার জন্য ছোট টর্চ
- কিছু নগদ টাকা। বনে কোনো এটিএম নেই।
মোবাইল নেটওয়ার্ক
জাহাজ গভীর বনে ঢুকলে নেটওয়ার্ক দুর্বল বা একেবারেই না থাকার কথা ধরে রাখুন, বিশেষ করে কটকা আর কচিখালীর দিকে। জাহাজ ছাড়ার আগে পরিবারকে জানিয়ে দিন, আর তিন দিন অফলাইনে থাকার আনন্দ নিন।
যাওয়ার জন্য তৈরি?
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ পেজ থেকে আপনার তারিখ পাঠান, অনুমতির কাজ আমরাই করব। বাকি পরিকল্পনার জন্য দেখুন: সুন্দরবন ভ্রমণ খরচ আর পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে সুন্দরবন যাওয়ার উপায়।