সংক্ষেপে উত্তর: খুলনা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের ২ রাত ৩ দিনের প্যাকেজে বাজেট জাহাজে জনপ্রতি খরচ ৯,০০০ টাকা থেকে শুরু। মাঝারি মানের জাহাজে খরচ পড়ে প্রায় ১৩,০০০ থেকে ১৮,৫০০ টাকা, আর প্রিমিয়াম ক্রুজে ১৭,৫০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা। প্রায় সব প্যাকেজ বনের ভেতরে একই রকম পথে ঘোরে, তাই সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজের দাম, মানে সুন্দরবন যাওয়ার খরচ, মূলত নির্ভর করে আপনি কোন জাহাজ আর কোন কেবিন বেছে নিচ্ছেন তার ওপর।
সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ ২০২৬-এর দাম তাই জাহাজ দিয়েই ঠিক হয়। নিচে দেখুন কোন দামে কী পাবেন, প্যাকেজে কী কী থাকে, আর যে ছোটখাটো বাড়তি খরচগুলো অনেকেই হিসাবে ধরতে ভুলে যান।
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ ২০২৬: সুন্দরবন ট্যুর জাহাজের তালিকা ও দাম (জনপ্রতি, ৩ দিন ২ রাত)
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ খরচ কত, তা নিচের তালিকায় দেখুন। এগুলো খুলনা থেকে সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ হিসেবে খুলনা থেকে শুরু ও খুলনায় শেষ হওয়া আমাদের সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ-এর জনপ্রতি দাম। তারিখ আর জাহাজে কত সিট খালি আছে তার ওপর দাম বদলায়, তাই টাকা দেওয়ার আগে আমরা হোয়াটসঅ্যাপে সঠিক দাম কনফার্ম করে জানাই।
বাজেট: ৯,০০০ টাকা থেকে
- এমবি জলফড়িং, বাংক বেডের কেবিন: ৯,০০০ টাকা থেকে
- সি পার্ল ক্রুজ ৩: ১০,৫০০ থেকে ১৩,০০০ টাকা
বাজেট জাহাজগুলো সাদামাটা আর আন্তরিক। কেবিন শেয়ার করে থাকতে হয়, খাট দোতলা বাংক, বাথরুমও সাধারণত শেয়ার করা। তবে বড় জাহাজের মতোই বনের একই স্পট, খাবার, গাইড আর সশস্ত্র বনরক্ষী পাবেন।
মাঝারি মান: ১৩,০০০ থেকে ১৮,৫০০ টাকা
- সি পার্ল ক্রুজ ৪
- এমভি উৎসব
- এমভি সানওয়ে
- এমভি দ্য রিভার ক্রুজ
- এমভি দ্য ওয়েভ
বেশিরভাগ পরিবার আর বন্ধুদের দল এই দামের জাহাজই বেছে নেন। কেবিন বেশি আরামদায়ক, ডেকে জায়গা বেশি, আর এর বেশিরভাগ জাহাজেই এসি আছে।
প্রিমিয়াম: ১৭,৫০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা
- এমভি দ্য এক্সপ্লোরার ও এমভি দ্য এক্সপ্লোরার ২.০
- এমভি আরাল সি
- এমভি গ্লোরি
- এমভি আলাস্কা
- এমভি দ্য ক্রাউন
- এমভি শের খান ২.০
প্রিমিয়াম ক্রুজে এটাচড বাথরুমসহ এসি কেবিন, বড় ডাইনিং আর তুলনামূলক শান্ত, কম ভিড়ের পরিবেশ পাবেন। কিছু জাহাজ বেশি জায়গাও ঘোরায়: যেমন এমভি আরাল সি সাধারণ স্পটগুলোর সঙ্গে টাইগার টিলা, জামতলা সৈকত আর হিরণ পয়েন্টে যায়।
প্যাকেজের দামে কী কী থাকছে
- জাহাজে শেয়ার করা কেবিনে দুই রাত থাকা
- সব বেলার খাবার, সঙ্গে জাহাজে চা, কফি ও বিস্কুট
- সরু খালে দেশি নৌকায় ঘোরা আর বনের ভেতরে হাঁটা
- খাবার পানি
- অভিজ্ঞ গাইড আর দলের সঙ্গে সশস্ত্র বনরক্ষী
- বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বন বিভাগের ফি ও অনুমতি
- ট্যাক্স ও টোল
বুকিং কনফার্ম করার সময় জাহাজের নাম, আপনার কেবিন, লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তার ব্যবস্থা, গাইড, বনরক্ষী আর পুরো রুট লিখে দেওয়া হয়, তাই কীসের জন্য টাকা দিচ্ছেন তা স্পষ্ট জানবেন।
যে বাড়তি খরচগুলো হিসাবে রাখবেন
- খুলনা যাওয়া-আসা। জাহাজ ছাড়ে খুলনা থেকে, তাই ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা প্লেনে খুলনা যেতে হবে। বিস্তারিত পড়ুন: ঢাকা থেকে সুন্দরবন যাওয়ার উপায়।
- আগের রাতে হোটেল, যদি রাতভর যাত্রার বদলে আগের সন্ধ্যায় খুলনা পৌঁছান।
- বিদেশি নাগরিকদের বনের অনুমতির ফি আলাদা এবং বেশি। আমাদের দামে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকদের ফি ধরা আছে, তাই দলে কারও বিদেশি পাসপোর্ট থাকলে বুকিংয়ের সময় জানাবেন।
- পেশাদার ক্যামেরার ফি, যদি ভারী পেশাদার ক্যামেরা সরঞ্জাম নেন। যাওয়ার আগে জেনে নিন।
- বকশিশ জাহাজের কর্মী, রাঁধুনি ও গাইডের জন্য, ইচ্ছা হলে দেবেন, বাধ্যতামূলক নয়।
- নাশতা, কোমল পানীয় আর কেনাকাটা, যেমন খুলনা বা মোংলায় সুন্দরবনের মধু।
সুন্দরবন ভ্রমণ কম খরচে করার উপায়
- দল বেঁধে যান। দল মিলে পুরো কেবিন নিলে জাহাজে থাকার খরচ সবচেয়ে কম পড়ে।
- মৌসুম বুঝে যান। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে ভিড়ের সময়, তখন জাহাজ আগেই ভরে যায় আর ভালো কেবিন আগে শেষ হয়। তারিখ ঠিক করার আগে পড়ুন: সুন্দরবন ভ্রমণের সেরা সময়।
- ছুটির সময় আগে বুক করুন। লম্বা সাপ্তাহিক ছুটি, ঈদ আর ডিসেম্বরের স্কুল ছুটিতে কয়েক সপ্তাহ আগেই সিট শেষ হয়ে যায়।
- রাতের বাস বা ট্রেনে খুলনা যান, তাহলে আগের রাতের হোটেল ভাড়া লাগবে না।
প্যাকেজ ছাড়া কম খরচে সুন্দরবন দেখা যায়?
যায়, যদি শুধু বনের একটু স্বাদ নিতে চান। মোংলা থেকে ভাড়া করা ট্রলারে করমজল বা হাড়বাড়িয়া একদিনের ভ্রমণে গিয়ে দিনে ফেরা যায়, আর ট্রলারের ভাড়া সবাই ভাগ করে দেন। তবে একদিনে গভীর বন, কটকা বা কচিখালী পৌঁছানো যায় না, আর বনের ভেতরে রাত কাটাতে হলে লাইসেন্সধারী সুন্দরবন ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমেই যেতে হয়। কোন জায়গা একদিনে দেখা যায় আর কোথায় জাহাজ লাগে, তা জানতে পড়ুন: সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থান।
সুন্দরবন ট্রাভেল এজেন্সি বাছাইয়ের সময় যা দেখবেন
শত শত অপারেটর আর এজেন্ট সুন্দরবন ভ্রমণ বিক্রি করেন। কাউকে টাকা দেওয়ার আগে দেখে নিন:
- জাহাজ আর কেবিনের নাম লিখিতভাবে দেওয়া আছে কি না, শুধু "একটা জাহাজ" নয়।
- দামে কী আছে আর কী নেই তা স্পষ্ট কি না: খাবার, বনের ফি, গাইড, বনরক্ষী।
- দলের সঙ্গে বনরক্ষী আর গাইড যাবেন কি না, আর জাহাজে সবার জন্য লাইফ জ্যাকেট আছে কি না।
- এজেন্সি অনুমোদিত কি না, আর তাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা যায় কি না। সফটওয়ে ট্রাভেলস ঢাকার একটি IATA ও ATAB অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি, আর টাকা দেওয়ার আগে আমরা হোয়াটসঅ্যাপে সব কনফার্ম করি।
বুক করতে চান?
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ পেজ থেকে আপনার তারিখ আর কতজন যাবেন জানিয়ে রিকোয়েস্ট পাঠান। কোন কোন জাহাজে জায়গা আছে, জনপ্রতি সঠিক দাম আর কেবিনের বিকল্পগুলো আমরা হোয়াটসঅ্যাপে জানাব, আর বনের অনুমতির ব্যবস্থাও আমরাই করব।