সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন, আর এর বাংলাদেশ অংশ, যা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য, প্রায় ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে। পর্যটকেরা এর ভেতরে হাতে গোনা কয়েকটি জায়গাতেই যান, প্রতিটিতে আছে বন অফিস, হাঁটার পথ বা ওয়াচ টাওয়ার, আর দায়িত্বে থাকা বনরক্ষী।
নিচে প্রধান সুন্দরবন টুরিস্ট স্পটগুলোর তালিকা দেওয়া হলো, মোটামুটি খুলনা থেকে জাহাজ যে ক্রমে পৌঁছায় সেভাবে, আর কোনগুলো একদিনে দেখা যায় তাও উল্লেখ করা হলো।
করমজল: সবচেয়ে সহজে প্রথম দেখা (একদিনের ভ্রমণ)
করমজল পশুর নদীর তীরে, মোংলা থেকে অল্প সময়ের নৌপথ। বেশিরভাগ মানুষ সুন্দরবন প্রথম দেখেন এখানেই, অথবা জাহাজ ভ্রমণের শেষ সকালে। উঁচু কাঠের পথ ম্যানগ্রোভের ভেতর দিয়ে একটি ওয়াচ টাওয়ারে গেছে। এখানে আছে কুমির প্রজনন কেন্দ্র, ঘেরা জায়গায় চিত্রা হরিণ, আর সবখানে বানর, তাই খাবার লুকিয়ে রাখুন।
- কীভাবে যাবেন: মোংলা থেকে ট্রলারে একদিনের ভ্রমণে, অথবা জাহাজ ভ্রমণের একটি স্টপ হিসেবে।
হাড়বাড়িয়া: আসল বনে প্রথম হাঁটা (অনুমতি নিয়ে একদিনের ভ্রমণ)
হাড়বাড়িয়া আরও দক্ষিণের একটি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র। কাঠের পথ আর ওয়াচ টাওয়ার আপনাকে করমজলের চেয়ে ঘন বনে নিয়ে যাবে, আর জাহাজ ভ্রমণে সাধারণত এটিই প্রথম দিনের বিকেলের স্টপ। মোংলা থেকে একদিনে যাওয়া যায়, তবে হাড়বাড়িয়ার জন্য বন বিভাগের আলাদা অনুমতি লাগে, তাই অপারেটরের মাধ্যমে যান।
কটকা: হরিণের মাঠ আর সাগর
কটকা বঙ্গোপসাগরের কাছে একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, আর অনেকের কাছে এটাই ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। খোলা মাঠে চিত্রা হরিণের পাল চরে, ওয়াচ টাওয়ার থেকে বন দেখা যায়, আর এখানকার খালে ভোরের নৌকাভ্রমণই বন্যপ্রাণী দেখার সেরা সুযোগ। বনের ভেতর দিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট হাঁটলে পৌঁছাবেন জামতলা সৈকতে, যেখানে বন এসে মিশেছে সাগরে, নিরিবিলি ফাঁকা বালুর সৈকত।
- কীভাবে যাবেন: শুধু দুই রাত বা তার বেশি সময়ের জাহাজ ভ্রমণে।
কচিখালী: তৃণভূমি আর সৈকত
কচিখালী কটকার পূর্বে, খোলা তৃণভূমিতে হরিণ চরে আর বুনো শূকর ঘুরে বেড়ায়, সঙ্গে সাগরমুখী লম্বা সৈকত। জাহাজ সাধারণত কাছেই নোঙর করে, বিকেলে বনরক্ষীর সঙ্গে হাঁটতে যাওয়া হয়।
ডিমের চর: কটকার কাছের ছোট দ্বীপ
ডিমের চর কটকা এলাকার কাছের একটি ছোট দ্বীপ, অনেক জাহাজ এখানে বালুর ওপর অল্প হাঁটার জন্য থামে। বনের ভেতরে হাঁটার ফাঁকে খোলা জায়গায় একটু হাত-পা ছড়ানোর শান্ত জায়গা।
হিরণ পয়েন্ট (নীলকমল): একেবারে দক্ষিণে
হিরণ পয়েন্ট, যার আরেক নাম নীলকমল, বনের একেবারে দক্ষিণের একটি অভয়ারণ্য, যেখানে যাওয়া বেশ কঠিন। পৌঁছাতে বাড়তি সময় লাগে, তাই সব জাহাজ এখানে যায় না। আমাদের প্যাকেজে এমভি আরাল সি সাধারণ স্পটগুলোর সঙ্গে হিরণ পয়েন্ট, টাইগার টিলা আর জামতলা সৈকতে যায়।
দুবলার চর: শীতের জেলে-দ্বীপ
দুবলার চর সাগরের কাছের একটি চর, যেখানে শীতকালে জেলেরা অস্থায়ী আস্তানা গেড়ে মাছ ধরেন আর শুঁটকি বানান। বিখ্যাত রাসমেলাও হয় এখানে, সাধারণত নভেম্বরে। এখানে যাওয়া নির্ভর করে মৌসুম, জোয়ার-ভাটা আর বন বিভাগের অনুমতির ওপর।
আরও কিছু জায়গা
- কালাবগী ও শেখেরটেক, খুলনার দিক থেকে একদিনের ভ্রমণে।
- কলাগাছিয়া ও দোবেকী, পশ্চিম দিকে, সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ ও শ্যামনগর থেকে যাওয়া যায়।
- মান্দারবাড়িয়া, দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের দূরের এক সৈকত, কিছু লম্বা ভ্রমণে।
কী কী দেখতে পারেন
চিত্রা হরিণ, বানর, বুনো শূকর, কাদায় রোদ পোহানো লোনা পানির কুমির, গুইসাপ আর নানা রকম মাছরাঙা প্রায়ই চোখে পড়ে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার এখানেই থাকে, তবে দেখা পাওয়া খুবই কম হয়। বেশিরভাগ পর্যটক বাঘ নয়, কাদায় বাঘের পায়ের ছাপ দেখেন, আর সেটাও সুন্দরবনের রোমাঞ্চের অংশ।
একদিনের ভ্রমণ না জাহাজ ভ্রমণ?
- করমজল: মোংলা থেকে একদিনে, অথবা জাহাজ ভ্রমণে
- হাড়বাড়িয়া: অনুমতি নিয়ে একদিনে, অথবা জাহাজ ভ্রমণে
- কটকা ও জামতলা সৈকত: শুধু জাহাজ ভ্রমণে
- কচিখালী: শুধু জাহাজ ভ্রমণে
- হিরণ পয়েন্ট ও দুবলার চর: শুধু কিছু জাহাজ ভ্রমণে
কটকা আর কচিখালী দেখতে হলে জাহাজে থাকতে হবে। আমাদের সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ খুলনা থেকে তিন দিনে হাড়বাড়িয়া, কচিখালী, ডিমের চর, কটকা আর করমজল ঘোরায়, সঙ্গে সব বেলার খাবার, গাইড আর সশস্ত্র বনরক্ষী।
ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন